সহেলি মিত্র, কলকাতা: উত্তরবঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে সড়ক ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ ও সংলগ্ন সিকিমে রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী দিনে সড়কপথের কাজও শুরু হবে। ইতিমধ্যে তৈরি করা হয়েছে একটি নীলনকশা। সব ঠিক থাকলে উত্তরবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ছুঁয়ে যাবে চারলেনের একটি চওড়া রাস্তা। উত্তরে যেহেতু বনজঙ্গল ও জীব বৈচিত্র্য তুলনামূলকভাবে বেশি, তাই সড়কপথ নির্মাণের আগে বিশেষ পরিকল্পনার প্রয়োজন। বাগডোগরা, পানিটাঙ্কি, খড়িবাড়ি ও গলগলিয়া হয়ে যাবে চারলেনের এই রাস্তা। সবচেয়ে বড় কথা, উত্তরবঙ্গে হাতিদের (Elephant Underpasses) নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাতিদের জন্য তৈরি হবে ৫টি আন্ডারপাস
NH-327 প্রোজেক্ট বাস্তবায়ন করার জন্য খরচ হতে পারে আনুমানিক ২ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। এই দীর্ঘ সড়কপথের মাঝে, একাধিক জায়গায় করা থাকবে হাতি যাতায়াতের জন্য প্যাসেজ। যে যে জায়গায় প্যাসেজ বা এলিফ্যান্ট করিডর করা হবে, সেখানকে রাস্তার উচ্চতা কিছুটা বেশি হতে পারে। মূল রাস্তার নিচ দিয়ে থাকবে হাতি যাতায়াতের জায়গা। প্রস্তাবিত মডেল অনুযায়ী, একসঙ্গে একাধিক হাতি যাতে সড়কের নীচ দিয়ে যেতে পারে, সে জন্য পর্যাপ্ত জায়গা করা হবে।
২,০৭৭ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্প
এলিফ্যান্ট করিডর সড়কের নীচে থাকার ফলে ট্র্যাফিক থেকে হাতির পালের দূরত্ব বজায় থাকবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩১.০২ কিলোমিটার যাত্রাপথে তিনটি প্রধান ব্রিজ, সার্ভিস রোড ও একটি আরওবি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্প উত্তরবঙ্গের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এই সড়কপথ তৈরি হওয়ার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন মসৃণ হবে, তেমনই পর্যটন শিল্প আগের থেকে অনেক বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করবে বলে আশা করা যায়।
প্রস্তাবিত পাঁচটি আন্ডারপাসের মোট দৈর্ঘ্য হবে ১,৭৬৫ মিটার। সন্ন্যাসী চা বাগান মোড়ে ৩১৫ মিটার, কিরণচন্দ্র চা বাগানে যথাক্রমে ৭০০ মিটার ও ৪৯০ মিটারের দুটি, অটল চা বাগানে ৬০ মিটার এবং পানিট্যাঙ্কিতে ২০০ মিটারের আন্ডারপাস তৈরি হবে।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশি সন্দেহে ২ মাস আটক ব্যক্তি, ‘৭০-র দশকে আসা সবাইকে ফেরানো সম্ভব?’ প্রশ্ন হাইকোর্টের
প্রতিটি আন্ডারপাসের উচ্চতা হবে ৭ মিটার এবং প্রস্থ ২২ মিটার। কিরণচন্দ্র চা বাগানকে গুরুত্বপূর্ণ হাতি করিডর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বন দফতর সূত্রে খবর, এই পথে একসঙ্গে ১০০-র বেশি হাতি চলাচল করে। তাই ৭০০ মিটারের আন্ডারপাসের পাশে একটি ওয়াচ টাওয়ারও থাকবে। হাতিদের নিরাপদ চলাচলের জন্য সাউন্ডপ্রুফ ব্যারিয়ার, ট্র্যাফিক সিগন্যাল, রবার স্ট্রিপ, ইকো-সেন্সিটিভ ফেন্সিং এবং সেন্সর-ভিত্তিক মনিটরিং সিস্টেম বসানো হবে। পাশাপাশি সিসিটিভির মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে।










