প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দাড়ি কামিয়েও হল না শেষ রক্ষা, মঙ্গলবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে (Indira Gandhi International Airport) দুবাই যাওয়ার পথে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বর্ধমানের ভুয়ো চিকিৎসক (Fake Doctor) শেখ সাইদুল। জানা গিয়েছে, মৃত শিশুর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করেছিল পুলিশ। আর তারপরেই এই ধরপাকড়। আপাতত তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে বর্ধমানে (Bardhaman) নিয়ে আসতে পুলিশ দিল্লি গিয়েছে। শীঘ্রই সাইদুলকে আদালতে তোলা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
দুবাইয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা চিকিৎসকের
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্ধমানের নবাবহাট এলাকার একটি হাসপাতালে গত ২ সেপ্টেম্বর, ফাইমোসিস অস্ত্রোপচারের পরে চার বছরের অরণ্য রায়ের মৃত্যু হয়েছিল। আর সেই অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন শেখ সায়দুল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে সাইদুলের চিকিৎসক হিসেবে যোগ্যতা ও নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে এবং তাঁকে ধরতে তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। এদিকে তদন্তের মাঝেই স্ত্রীকে নিয়ে আরবদেশে পাকাপাকি বসবাসের স্বপ্ন দেখছিলেন ওই ভুয়ো চিকিৎসক। কিন্তু তাতে জল ঢেলে দিল পুলিশ। খবর পেতেই গতকাল রাতে লুক আউট নোটিস নিয়ে দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশের চোখে ধুলো দিতে কেটেছিলেন দাড়ি
শিশুর পরিবারের তরফে অভিযোগ পাওয়ার পরেই বেশ কিছু দিন ধরেই সায়দুলের পরিবারের সদস্যদের উপরে নজর রাখছিল পুলিশ। নজরদারি চলছিল সায়দুলের পার্টনারশিপে চলা নার্সিংহোমগুলোতেও। তখনই পুলিশ জানতে পারে, তিনি দুবাইয়ে চলে যাবেন। ট্র্যাক করা হয় সায়দুলের ফোন। কিন্তু ঘন ঘন সিম কার্ড পরিবর্তন করায় তদন্তে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল পুলিশদের। শেষ বার তাঁকে দেখা গিয়েছিল একগাল দাড়িতে। পরে পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিতে দাড়ি কেটে ফেলেছিলেন সায়দুল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বড় সাফল্য অর্জন করল পুলিশ। মঙ্গলবার সায়দুলের গ্রেপ্তার হওয়ার খবর শুনে আবেগে কেঁদে ফেলেন অরণ্যর মা শিল্পা রায়। তিনি বলেন, “চেয়েছিলাম আমার মতো আর কোনও মায়ের কোল যেন খালি না-হয়। পুলিশকে এই কাজের জন্য ধন্যবাদ জানাই। আইনের পথেই যেন এ বার কঠোর শাস্তি হয় ওই ভুয়ো চিকিৎসকের।”
আরও পড়ুন: হল না শেষ রক্ষা, চিকিৎসাধীন অবস্থায় SSKM-এ মৃত্যু পূর্বস্থলীর মণ্ডল সভাপতি সুজিত হালদারের
অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড নার্সিং হোম-এর তরফে এক বিবৃতিতে ‘ভুয়ো’ চিকিৎসক সাইদুলকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। তারা জানিয়েছে, “আমরা আশাবাদী যে, আমাদের পক্ষ থেকে প্রথমে চিহ্নিত করা ভুয়ো চিকিৎসক জুলফিকার এবং আরও চার জন ভুয়ো চিকিৎসককেও শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে।”










