সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নির্বাচনে ভরাডুবির পর বেহাল দশা তৃণমূলের যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। ত্রাণ দুর্নীতি থেকে শুরু করে চাকরি দুর্নীতি, কয়লা পাচার, সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে দুর্নীতি সহ একাধিক অভিযোগে বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে এফআইআর। একবার হাইকোর্ট, একবার সুপ্রিম কোর্টে দৌড়তে হচ্ছে যুবরাজকে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেয়েছেন তিনি। এমনকি বিদেশ যাওয়ার অনুমতিও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে নতুন মামলার শুনানিতে এবার কড়া অবস্থান নিল রাজ্যের উচ্চ আদালত। বিচারপতি জানিয়ে দিলেন, “এবার যথেষ্ট হয়েছে। আমি ক্লান্ত।”
অভিষেকের মামলা নিয়ে ‘ক্লান্ত’ হাইকোর্টের বিচারপতি
তৃণমূল সাংসদকে আগের মামলাগুলিতে রক্ষাকবচ দিলেও আদালতের শর্ত ছিল, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। তবে একের পর এক অভিযোগ এবং এফআইআর দায়ের নিয়ে এবার বিচারপতির নিজেরই অতিষ্ঠ অবস্থা! এদিন শুনানির শুরুতে বিচারপতি জানিয়েছেন, “৪ মে থেকেই শুনে আসছি। এবার আমি নির্দেশ দিতে চলেছি। যথেষ্ট হয়েছে। আমি ক্লান্ত।” এমনকি পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি হলে অভিষেকের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছে আদালত।
হাইকোর্টের আরও পর্যবেক্ষণ, ব্যক্তিগতভাবে তিনটি মামলা খতিয়ে দেখে অভিষেকের বিরুদ্ধে তেমন কোনও প্রাথমিক প্রমাণ মেলেনি। ২০২৪-র লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে অভিষেকের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল বিজেপির প্রার্থী অভিজিৎ দাস। তিনি বারবার একাধিক থানায় তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ লিখিয়েছেন। তা নিয়ে আদালত জানিয়েছে, ওই অভিযোগকারী অভিষেকের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং তাঁর কাছে তিনি দু’বার নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: জেলাশাসকের দফতর ঘেরাও কর্মসূচি, ফের বাঁকুড়ায় আন্দোলনের ডাক সিজেপির
এদিকে সেবাশ্রয় শিবিরের নকল ওষুধ দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে রাজ্য। সেই সূত্রে আদালতের প্রশ্ন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি ওষুধ প্রেসক্রাইব করেছিলেন? এমনকি এক বছর আগে কেন অভিযোগ জানানো হয়নি সেই প্রশ্নও তোলেন হাইকোর্টের বিচারপতি। আদালতের মতে, চিকিৎসা ব্যবস্থায় গাফিলতি থাকতে পারে। তবে সেখানে অভিষেকের সরাসরি যোগের প্রমাণ স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি অভিষেকের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন জানান, তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে যে ১৬টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তার মধ্যে সাতটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের করা। সেই সূত্রেই আদালত এবার কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, এরকম ভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক হতে পারে।










