পুজোর সময়েই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হাওড়ার ১৪টি ফেরি ঘাট! কারণ কী?

Published:

Howrah Ferry Service

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: চতুর্থীতেই মহাবিপাকে পড়লেন যাত্রীরা, বকেয়া দু’মাসের বেতন এবং পুজোর বোনাস না পাওয়ায় হাওড়ায় প্রায় ১৪টি ঘাটে ফেরি পরিষেবা (Howrah Ferry Service) বন্ধ করে দিলেন কর্মীরা। জানা গিয়েছে, আজ দুপুর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন হুগলি (Hooghly) নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির কর্মীরা। এমতাবস্থায় পুজোর সময়ে কলকাতা (Kolkata Ferry Service) এবং হাওড়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় মহা সমস্যায় পড়লেন যাত্রীরা।

বেতন নিয়ে অভিযোগ কর্মীদের

পুজোর সময় হাওড়ায় হুগলি নদীঘাটগুলিতে ভিড় অনেক বেশি থাকে। নিত্যযাত্রীদের সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর মানুষ পুজোয় ঠাকুর দেখতে বার হন। অনেকের কাছেই ভরসা এই ফেরি পরিষেবা। প্রায় ২৫০ জন কর্মী কাজ করেন এখানে। হাওড়া থেকে গোলাবাড়ি, শোভাবাজার, বাগবাজার, চাঁদপাল, আর্মেনিয়া, প্রিন্সেপ ঘাট রুটে নিয়মিত ফেরি চলে। এছাড়াও বাউরিয়া এবং নুরপুর রুটেও একইভাবে ফেরি চালান কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, গত ২ মাসের বেতন এবং বোনাস এখনও বাকি। কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনরকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। যার ফলে চরম আর্থিক কষ্টের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। আর সেই কারণে এবার ফেরি পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল কর্মীরা।

সমস্যায় পড়েছেন যাত্রীরা

বিক্ষোভকারী কর্মীদের দাবি, শুধু পুজোর সময় সমিতির ১৪টি ফেরিঘাটে টিকিট বিক্রি করেই কয়েক লক্ষ টাকা আয় হয়। ওই টাকায় অনায়াসে কর্মীদের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া যেতে পারত। কিন্তু তা হয়নি। তাই এই কর্মবিরতি। এদিকে আজ দুপুর থেকে পরিষেবা বন্ধ থাকার ফলে হাওড়া স্টেশন দিয়ে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রী কলকাতায় আসতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। উল্লেখ্য, হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির নির্বাচিত পরিচালন পর্ষদ না থাকায় বর্তমানে হাওড়া জেলা সমবায় দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার অফ কো-অপারেটিভ সোসাইটি বা এআরসিএস প্রশাসক হিসাবে কাজ চালাচ্ছেন। তাঁরাও কর্মীদের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়েছে।

আরও পড়ুন: ‘স্ত্রীকে বিজেপি প্রার্থী করতে হবে, তাই..’, নাম না করে বিস্ফোরক কুণাল, নিশানায় কি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়?

কর্মীদের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক দায়িত্বপ্রাপ্ত এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট, রাজ্য পরিবহণ দপ্তর এবং জেলা পরিষদ এই সমিতি থেকে ভাড়া বাবদ মোটা টাকা পায়। আগে সেই টাকা শোধ করা হবে। এর মধ্যে কর্মীদের বেতনও দিতে হবে। তবে বোনাস দেওয়া হবে কিনা তা সমবায় দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঠিক করবেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে তবে কি পুজোর মরশুমে পুরোপুরি বন্ধ থাকবে ফেরি পরিষেবা?

google button