আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) বাঙালিদের দুর্গাপুজোর (Durga Puja) প্রকৃত আবহ তৈরি হয় মূলত তিনটি শব্দে। এক ঢাকের বাদ্যি, দুই শঙ্খধ্বনি আর তিন মহিলাদের উলুধ্বনিতে (Ulu Dhwani)। এই তিনের মেলবন্ধন প্রতিটি বাঙালির উৎসবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে পুজোর মণ্ডপে আরতি, সিঁদুরখেলা কিংবা বিসর্জনের মুহূর্তে মহিলাদের একসঙ্গে উলুধ্বনি দেওয়ার দৃশ্য উৎসবের আনন্দকে আরও দশগুণ বাড়িয়ে তোলে।
উলুধ্বনি বিষয়টা এলো কোথা থেকে?
উলুধ্বনি আসলে এক ধরনের বিশেষ কণ্ঠস্বর, যা সাধারণত মহিলারা জিভের দ্রুত সঞ্চালনের মাধ্যমে তৈরি করেন। বাংলায় এই ধ্বনি ‘উলু’ বা ‘উলুধ্বনি’ নামে পরিচিত। শুধু দুর্গাপুজো নয়, কালীপুজো-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সামাজিক উৎসবেও এই প্রথার প্রচলন রয়েছে।
বাঙালির লোকাচারে উলুধ্বনিকে শুভ আওয়াজ, আনন্দ ও মঙ্গলকামনার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। বাঙালিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ধ্বনি অশুভ শক্তিকে দূরে সরিয়ে শুভ শক্তির আগমনের পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করে। এটি মূলত সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর গুরুত্ব বাঙালির দীর্ঘদিনের আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই অন্তর্নিহিত রয়েছে।
বিয়ের মতো অত্যন্ত শুভ অনুষ্ঠানেও উলুধ্বনির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বরকে বরণ, শুভদৃষ্টি কিংবা বিয়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মহিলারা একসঙ্গে উলুধ্বনি দেন। সন্তানের জন্ম, নামকরণ এবং গৃহপ্রবেশের মতো শুভ অনুষ্ঠানেও এই রীতি দেখা যায়। অঞ্চল ও পরিবারভেদে এই প্রথা পালনের ধরনে অবশ্য কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: বাংলা-হিন্দি মেশানো বাক্যে দুর্গাপুজোর বিজ্ঞাপনে! ফের কাঠগড়ায় কলকাতা পুরসভা
সময়ের সঙ্গে উৎসবের আয়োজন ও উদ্যাপনের ধরন বদলেছে, কিন্তু উলুধ্বনির ঐতিহ্য আজও অটুট। এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই দুর্গাপুজোর ভিড়, ঢাকের আওয়াজ আর শঙ্খধ্বনির মাঝে উলুধ্বনি কেবল একটি বিশেষ শব্দ নয়, বরং বাঙালির উৎসবের আবেগ, আনন্দ এবং পরম্পরার একত্রিত সুর।










