কালীঘাট মন্দিরের সম্পদ নয়ছয়ের আশঙ্কা! ৪৬ বছর ধরে নিখোঁজ ভল্টের চাবি, হয়না নির্বাচনও

Published:

Kalighat Temple

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সম্পদ নয়ছয়ের অভিযোগ উঠল কালীঘাট মন্দিরে (Kalighat Temple)। অভিযোগ, ১৯৮০ থেকে মন্দিরের ভল্টের (Kalighat Temple Vault) চাবি ‘নিখোঁজ’, গঠন হয়নি কোনো নির্বাচিত কমিটিও এমনকি মানা হয়নি হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, আর তাই এবার কালীঘাটের গয়না-সম্পদের হদিশ জানতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা জজের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাল সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদ। ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে মন্দির ঘিরে।

১৯৮০ সাল থেকে নিখোঁজ ভল্টের চাবি

সতীপীঠের অন্যতম পীঠস্থান হল কালীঘাট। এই মন্দির ঘিরে রয়েছে হাজারো ইতিহাস। কিন্তু এবার সেই সতীপীঠেই নাকি চরম অরাজকতার অভিযোগ উঠে এল। সম্প্রতি সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদ প্রশ্ন তুলল মায়ের মন্দিরের গচ্ছিত সম্পদের হিসাব নিয়ে। পরিবারের অভিযোগ, “দেবীর মূল্যবান অলঙ্কার ও অন্যান্য সম্পদ রাখার জন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ভল্ট রয়েছে। কিন্তু ১৯৮০ সাল থেকে সেই ভল্টের চাবি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ভল্টের ভিতরে ঠিক কী কী সামগ্রী রয়েছে, সবকিছু সুরক্ষিত আদেও আছে কি না এবং শেষ কবে সেগুলির যাচাই হয়েছিল তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তাই সেগুলির হদিশ চেয়ে পরিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা জজের কাছে দ্বারস্থ হয়েছে।

মন্দিরের সম্পদকে কেন্দ্র করে একগুচ্ছ অভিযোগ

জানা গিয়েছে, ১৫৬৯ সালে সাবর্ণ গোত্রীয় জিয়া গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী পদ্মাবতীদেবী হালিশহর থেকে কলকাতায় এসে বসবাস শুরু করেছিলেন। কথিত আছে, ১৫৭০ সালে তিনি জলের নীচে খুঁজে পান মায়ের ডান পায়ের আঙুল। তাঁকে দেখা দেন মা স্বয়ং। সেই দেহাংশকেই প্রতিষ্ঠা করা হয় পর্ণকুটিরে। অর্থাৎ কালীঘাটে যে মাতৃমূর্তি প্রতিষ্ঠিত, তা সাবর্ণদের কুলদেবী ভুবনেশ্বরী মায়ের আদলে। কিন্তু সেই মন্দিরের সম্পদকে কেন্দ্র করেই একগুচ্ছ অভিযোগ জমা পড়েছে। এদিকে পদাধিকারবলে জেলা জজ হলেন কালীঘাট মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান। এখন জেলা জজ অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও তদন্ত বা পদক্ষেপের নির্দেশ দেন কি না, সেদিকেই নজর।

FIR করার দাবি পরিবারের

সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরীর বক্তব্য, মন্দিরের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল তার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপর থেকে নিয়মিত ভাবে গয়না ও অন্যান্য সম্পদের হিসাব পরীক্ষা করা হয়নি। আর এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে মন্দিরের সম্পদ নয়ছয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেহেতু বিষয়টির সঙ্গে অসংখ্য ভক্তের বিশ্বাস এবং আবেগ জড়িয়ে রয়েছে, তাই ভল্টের চাবি হারানোর ঘটনায় অবিলম্বে FIR করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এছাড়াও এই মন্দির কমিটি হাইকোর্ট এবং সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ অমান্য করেছে বলেও দাবি করেছে পরিবার।

আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশে গরুর মাংস এবং ইলিশ প্রিয়’ অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর মন্তব্যে বিতর্ক

মানা হয়নি হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের দাবি ২০১৪ সালের পর থেকে মন্দির পরিচালন কমিটির নির্বাচন হয়নি। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মন্দির সংক্রান্ত নির্বাচিত কমিটির কার্যকালের মেয়াদ পাঁচ বছর। এছাড়াও একটি বণিকসভার প্রতিনিধিরও কমিটিতে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বণিকসভার হয়ে দায়িত্বে থাকা শিল্পকর্তার মৃত্যুর পরে আর নতুন প্রতিনিধি নিয়োগ করেনি মন্দির কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে ভক্তদের দেওয়া দানসামগ্রী দেখভালের দায়িত্ব দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসনকে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট, কিন্তু সেই নির্দেশও বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে পরিবার পরিষদ।

ডিসেম্বরেই হবে নির্বাচন!

প্রসঙ্গত, কালীঘাট মন্দির কমিটির নির্বাচন বন্ধ ২০১৪ সাল থেকে। এই নিয়ে মন্দিরের কোষাধ্যক্ষ পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলানো কল্যাণ হালদার বলেন, ‘কাউন্সিল অব সেবায়েতস নির্বাচন সংঘটিত করে। এখানকার সম্পাদক প্রয়াত এবং চেয়ারম্যান শয্যাশায়ী থাকায় নির্বাচন হয়নি। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি জেলা জজকেও জানানো হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে।’