প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। অভিযোগ নির্দিষ্ট কর্মী সংখ্যার তুলনায় নাকি প্রতি মাসে বেতন ও মজুরি বাবদ বেশি পরিমাণ অর্থ কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে। অর্থাৎ কর্মীসংখ্যার সঙ্গে কোষাগার থেকে খরচ হওয়া টাকার পরিমাণে বিস্তর ফারাক রয়েছে। তাই এবার সব কর্মীদের তালিকা তৈরি করে বেতন যাচাই করার জন্য এবং আর্থিক গরমিলের উৎস খুঁজে বার করতে তদন্ত কমিটি গঠন করলেন কলকাতা পুরসভার বিশেষ কমিশনার সৌম্য ভট্টাচার্য।
চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা বেশি পুরসভায়
সম্প্রতি কলকাতা পুরসভায় কর্মীসংখ্যা ও বেতন বাবদ খরচের হিসেবে ব্যাপক গরমিলের অভিযোগ উঠে এসেছে, দেখা গিয়েছে নির্দিষ্ট কর্মীসংখ্যার তুলনায় প্রতি মাসে বেতন ও মজুরি বাবদ বেশি পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছে। পুরসভার প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে,গত ১৫ বছরে পুরসভায় স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। এদিকে একই এজেন্সি দিয়ে বারবার চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ হচ্ছে পুরসভার। যদিও এর পিছনে বড় যুক্তি দিয়েছে তৃণমূল। তাঁদের মতে, পুরসভার তহবিল কম থাকায় চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ হত। কারণ স্থায়ী কর্মী নিয়োগ হলেই তাঁদের পিএফ, গ্রাচুইটি সহ সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করতে হত।
বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে
বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় (Kolkata Municipal Corporation) স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ১৪ হাজারের কিছু কম এবং অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ১৬ হাজারের কিছু বেশি। তার উপর রয়েছে ১০০ দিনের প্রকল্পের বিপুল সংখ্যক কর্মী। কিন্তু অস্থায়ী কর্মীদের কাজের নিরিখে যে পরিমাণ বেতন বা মজুরি হওয়ার কথা, তার তুলনায় বেশি টাকা কোষাগার থেকে বেরিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গরমিলের বড় অংশটি কর্মী সরবরাহকারী এজেন্সিগুলির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তাই এই গরমিলের উৎস খুঁজে বার করতে কলকাতা পুরসভার বিশেষ কমিশনার সৌম্য ভট্টাচার্য পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, পুরসভার ওয়ার্ড অফিস, বরো অফিস, বিভিন্ন বিভাগীয় দফতর, পুরসভার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান এবং মূল ভবনের কর্মী সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য।
আরও পড়ুন: বাঘিনীর মৃত্যুর ১১ দিন পর প্রয়াত শেষ রয়্যাল বেঙ্গলটিও, ঝাড়খালির ব্যাঘ্র কেন্দ্রে শোকের ছায়া
কলকাতা পুরসভার বিশেষ কমিশনার সৌম্য ভট্টাচার্য জানিয়েছেন কোথায় কত জন স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন, সরাসরি চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা কত, এজেন্সির মাধ্যমে কত জন নিযুক্ত হয়েছেন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে কত কর্মী কাজ করছেন সবটাই খতিয়ে দেখা হবে। শুধু তাই নয় বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্সও পরীক্ষা করা হবে। এছাড়াও কারা বেতন পান, কারা দৈনিক মজুরি পান এবং কারা বিভিন্ন ধরনের ভাতা পান সেই নিয়েও পৃথক তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এরপর তদন্ত কমিটির প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে কলকাতা পুরসভা।










