বর্ষায় ভুগতে হবে না জলযন্ত্রণায়, উন্নত ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশন তৈরি করছে কলকাতা পুরসভা

Published:

Kolkata Municipal Corporation

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বৃষ্টি কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী হলেই জলের তলে চলে যায় কলকাতা (Kolkata)! এমনটা বললে খুব একটা ভুল হবে না। আসলে যারা শহর কলকাতায় যাতায়াত করেন তাঁরা খুব ভালোভাবেই জানবেন একটানা বৃষ্টি হলে তিলোত্তমার অবস্থা কী হয়! এর জন্য অবশ্য বারবার কাঠগড়ায় তোলা হয় কলকাতা পুরসভাকে (Kolkata Municipal Corporation)! প্রশ্ন ওঠে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়েও! সম্প্রতি একটানা প্রাক মৌসুমি কালবৈশাখী ও বৃষ্টির জের উত্তর কলকাতার একাধিক এলাকায় জমেছে জল। আর সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা পৌরসভা। সূত্রের খবর, বর্ষার সময় যাতে শহরে জল না দাঁড়ায় সেই লক্ষ্যেই বৃষ্টির জল নামাতে নতুন উন্নত ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনের কাজ দ্রুত শেষ করতে চাইছে পৌরসভা।

বর্ষার আগেই ড্রেনেজ সিস্টেম নিয়ে তৎপর পৌরসভা

আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলায় হানা দেবে বর্ষা। সেই সময় যাতে শহরের মানুষকে জল যন্ত্রণা ভোগ করতে না হয় সেই লক্ষ্যেই এবার ঋষিকেশ পার্কে নির্মীয়মান নতুন ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনটি আগামী জুনের শুরুতেই আংশিক ভাবে চালু করার পরিকল্পনা নিচ্ছে কলকাতা পৌরসভা। এ প্রসঙ্গে কলকাতা পৌরসভার নিকাশি বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্ষার সময় যাতে পুরোপুরি তৈরি থাকা যায় সেজন্যেই এই ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনের প্রথম ধাপের কাজ আগামী মে মাসের মধ্যেই শেষ করার পরিকল্পনা চলছে।

উত্তর কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় জল নামার সমস্যা সমাধানের জন্য বদ্ধপরিকর প্রশাসন। বিশেষত মুক্তারামবাবু স্ট্রিট থেকে শুরু করে ঠনঠনিয়া, কলেজ স্ট্রিট, কেশব সেন স্ট্রিটের মতো জায়গাগুলিতে জল একপ্রকার হাঁটুর উপরে উঠে যায়। তাতে বর্ষার সময় বেশ সমস্যায় পড়তে হয় আমজনতাকে। কেননা এই অঞ্চলগুলির ড্রেনের সিস্টেম কালবৈশাখীর সময় হওয়া প্রচন্ড বৃষ্টি ঠেকাতে সক্ষম নয়। এমনিতেও সাধারণ সময়ে এখানে কিছুটা বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

অবশ্যই পড়ুন: আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে আজও চাকরি হয়নি মৃতদের পরিবারে, আশায় দিন গুনছে পরিজনরা

মূলত সে কারণেই সবদিক মাথায় রেখে ঋষিকেশ পার্কে নতুন ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশন তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ড্রেনের সিস্টেম একবার তৈরি হয়ে গেলে আগামী দিনে বিশেষ করে বর্ষাকালে জল নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত আধিকারিকদের দাবি, এই বিশেষ প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে জল একেবারে দ্রুতগতিতে নামবে। ফলে জল দাঁড়িয়ে থাকার যে সমস্যা কলকাতার মানুষকে ভোগ করতে হচ্ছে সেটা আর হবে না। ইতিমধ্যেই শহর কলকাতার বুকে এই বিশেষ প্রকল্পের গুরুত্ব কতখানি তা নিজের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও। তাঁর দাবি, শহর কলকাতায় এই বিশেষ ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশন ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।