বছরে ৫০ ঘণ্টা শিক্ষকদের NISHTHA প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক, প্রকাশ্যে এল বিজ্ঞপ্ত

Published:

NISHTHA

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের পরিকল্পনায় একধাপ এগিয়ে এল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার (Government Of West Bengal)। এবার শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্য প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হল ‘ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ ফর স্কুল হেডস অ্যান্ড টিচার্স হলিস্টিক অ্যাডভান্সমেন্ট’ বা ‘NISHTHA’ প্রশিক্ষণের জরুরি নোটিশ। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকার (Government Teachers) জন্য বছরে অন্তত ৫০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আর তাই নিয়ে তুমুল শোরগোল শুরু হল শিক্ষামহলে।

NISHTHA নিয়ে ভাবনা রাজ্য সরকারের

পড়ুয়াদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ-এর নেপথ্যে শিক্ষক শিক্ষিকাদের অবদান অনস্বীকার্য। তাই সেক্ষেত্রে শিক্ষকদের যাতে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় কোনো খামতি না থাকে সেজন্য রাজ্যের নতুন সরকার প্রথম থেকেই একাধিক ভাবনা চিন্তা করে চলেছে। ২০১৮ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সময় কালের প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের মধ্যে সমীক্ষা চালানো হয়। সেখানেই দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ শিক্ষক জাতীয় শিক্ষানীতি সম্পর্কে তেমন খুব ভাল জানেন না। শুধু তাই নয়, লার্নিং আউটকাম সম্পর্কেও অনেকের মধ্যে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। তাই সেই সকল সমস্যা দূর করতে গত মে মাসেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘NISHTHA’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হবে শিক্ষকদের।

NISHTHA প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, বুধবার, আলিপুরদুয়ার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়, সেখানে আলিপুরদুয়ারের সকল সরকারি স্কুল ও মাদ্রাসা রাজ্যের সব শিক্ষক-শিক্ষিকা যাতে এই প্রশিক্ষণে যোগ দেয় তার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়াও এই কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট জেলা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও সহায়তার অনুরোধ করা হয়েছে। জানানো হয়েছে প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষিকাদের বছরে অন্তত ৫০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। যদিও এই প্রশিক্ষণের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকদের একাংশ।

NISHTHA

আরও পড়ুন: NRS হাসপাতালে কর্মরত নার্সের রহস্যমৃত্যু, শৌচালয় থেকে উদ্ধার দেহ

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘DIKSHA’ প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে ‘NISHTHA’ মডিউলের অধীনে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আর এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াটিকে মোট তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে থাকবে জাতীয় শিক্ষানীতি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা, দ্বিতীয় ধাপে থাকবে আধুনিক পেডাগজি এবং বিষয়ভিত্তিক পাঠদান পদ্ধতি। এবং তৃতীয় ধাপে থাকবে শিক্ষা ক্ষেত্রের বিভিন্ন নতুন চিন্তাভাবনা, আধুনিক থিম এবং বিষয়ের গভীরতা নিয়ে চর্চা।

google button