প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কথা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সরকার, রাজ্য সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এবার বয়সের ঊর্ধ্বসীমা নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন প্রশাসন (Government Of West Bengal)। জানা গিয়েছে, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আরও দুই বছরের জন্য বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নবান্ন (Nabanna)। গতকাল, সোমবার, রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরের তরফ থেকে এই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ব্যাপক খুশি চাকরিপ্রার্থীরা।
অর্থ দপ্তরের জরুরী বিজ্ঞপ্তি
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের সংকল্প পত্রেই চাকরিপ্রার্থীদের বয়সের সর্বোচ্চ সীমা বৃদ্ধি নিয়ে বড় আপডেট দিয়েছিল বিজেপি৷ আর ক্ষমতায় আসতেই সেই প্রতিশ্রুতি রাখল বিজেপি সরকার। জানা গিয়েছে, সরকারি চাকরিতে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানোর কথা ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ভারতের সংবিধানের ৩০৯ নম্বর অনুচ্ছেদে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিসেস (রেইজিং অফ এজ-লিমিট) রুলস, ১৯৮১’-এ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছিল। সেই সময় প্রকাশিত মূল নির্দেশিকায় বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ কার্যকর থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি নতুন বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, এই নির্দেশিকা প্রকাশের তারিখ থেকে আগামী দুই বছর পর্যন্ত বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ছাড়ের নিয়মটি বলবৎ থাকবে।
বাড়তি বয়সসীমার সুবিধা মিলবে ২ বছর
সরকারের স্পষ্ট কথা, যেহেতু এই বিজ্ঞপ্তিটি ২০ জুলাই, ২০২৬-এ প্রকাশিত হয়েছে, তাই এই বর্ধিত বয়সসীমার সুবিধা ১৯ জুলাই, ২০২৮ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে প্রকাশিত সমস্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ক্ষেত্রেই বাড়তি বয়সসীমার সুবিধা প্রযোজ্য হবে। এমনকি পরে এই সময়সীমা শেষ হয়ে এলেও, ওই সময়ে প্রকাশিত নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলিতে প্রার্থীরা এই সুবিধা পাবেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাপক খুশির মেজাজ দেখা গিয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের মনে। এমনকি যারা বয়সের কারণে সরকারি চাকরিতে আবেদন করা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন, তারাও আগামী দুই বছর এই বাড়তি সুযোগটি পাবেন।
আরও পড়ুন: বিড়লা তারামণ্ডলের তৃণমূলের মঞ্চে ভাঙচুর, রাতভর পাহারায় মমতা অভিষেক
অন্যদিকে রাজ্য সরকারের নতুন ভাষানীতি প্রণয়নের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, “আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গের সর্বস্তরে আমরা বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামূলক ও কার্যকর করলাম। ভারত সরকার বা অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রে আমরা বাংলা ভাষায় চিঠিপত্র লিখব, উত্তর দেব। তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে আমরা বাংলা ভাষার সঙ্গে হিন্দি ভাষাতেও উত্তর বা চিঠিপত্র আদান-প্রদান করব।” এর আগে বাম জমানায় বাংলা ভাষাকে প্রশাসনিক কাজে আরও বেশি ব্যবহার করতে উদ্যোগী হয়েছিল সরকার। কিন্তু সেই ব্যবস্থাও বেশি দিন চলেনি।










