বিয়ে করে অন্যত্র চলে গিয়েছে বাবা-মা দু’জনই, অনাহারে দিন কাটছে ৬ বছরের শিবমের

Published:

POOR Family

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বয়স মাত্র ছয় বছর। এই বয়সে অন্য শিশুরা বাবা-মায়ের হাত ধরে স্কুলে যায়, খেলনা নিয়ে খেলে, আবদার করে। কিন্তু শিবম ঘোষের ছোট্ট জীবনটা অনেকটাই অন্যরকম। তারা মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা। বাবা-মা দু’জনেই তাকে ছেড়ে আলাদা সংসার পেতেছেন। তাই এখন ঠাকুরদা, ঠাকুমা আর ক্যান্সারে আক্রান্ত এক অসহায় পিসি ছাড়া তার আর কেউ নেই। তাদের কাছেই বড় হচ্ছে ছোট্ট শিবম। সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী হলেও পড়াশোনা করে একদিন অনেক বড় হওয়ার স্বপ্নটাই আঁকড়ে ধরে বেঁচে রয়েছে সে (Sad Story)।

নিত্যদিনের সঙ্গী দুর্বিষহ অভাব

শিবম পড়াশোনা করতে চায়। কিন্তু সেই ইচ্ছের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অভাব। চার বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে ঠাকুমা মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা উপার্জন করেন। সেই সামান্য টাকাতেই বাড়ি ভাড়া, খাবার এবং সংসারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে হয়। অনেক সময় সেই টাকাতেও চারজনের পেট ভরে না। এমনও দিন যায়, যখন সবাই খাওয়ার পর শিবমের ঠাকুমার জন্য আর খাবার বাঁচে না, জল খেয়েই পেট ভরান তিনি। নিজের কথা না ভেবে পরিবারের বাকিদের মুখে খাবার তুলে দেওয়াই যেন তাঁর প্রতিদিনের লড়াই।

তার উপর শিবমের পিসি ক্যান্সারে আক্রান্ত। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা ও নিয়মিত ওষুধ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করেই দিন কাটছে তাঁর। স্বামী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও মায়ের কাছে রয়েছেন তিনি। অসুস্থ হওয়ার পর স্বামী তাঁকে বাপের বাড়িতে রেখে গিয়েছেন বলে পরিবারের অভিযোগ। এখন নিজের চিকিৎসার দায়িত্বও কার্যত পরিবারের উপরেই।

আরও পড়ুন: একধাক্কায় ৫১ হাজার টাকা বেতন বাড়তে পারে সরকারি কর্মীদের!

শিবমের ঠাকুরদাও বয়সের ভারে প্রায় অক্ষম। ফলে সংসারের সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়েছে বৃদ্ধা ঠাকুমার কাঁধে। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ছোট্ট শিবমের চোখে অনেক স্বপ্ন। অভাবের সংসারে দাঁড়িয়েও সে পড়াশোনা করে বড় হতে চায়। প্রতিদিন ঠাকুমার মুখের দিকে তাকিয়ে সে মনে মনে একটা কথাই বলে, তাদের এই কষ্টের দিন ঠিক বদলাবে। ছোট্ট শিবমের সেই স্বপ্নই আজ তার পরিবারের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় আশার আলো।