অনন্যা সরকার, মালদহ: প্রচলিত শাক-সবজি বা চিরাচরিত শস্যের চাষ থেকে সরে এসে পুরাতন মালদহের কৃষক মনতোষ রাজবংশী বিকল্প চাষাবাদের ক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখাচ্ছেন (Success Story of Farmer Monotosh Rajbongshi)। তিনি প্রায় দুই বিঘা জমিতে ‘আলিয়া’ এবং ‘মধুমতি’ – এই দুই বিশেষ জাতের মাস্কমেলন (Muskmelon Farming) সফলভাবে চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। মালদহ জেলায় এই প্রথম মাস্কমেলনের চাষ হল। পুরাতন মালদহের নারায়ণপুর এলাকায় তাঁর এই বিশেষ উদ্যোগ অন্যান্য কৃষকদেরও আগ্রহী করে তুলেছে।
মাস্কমেলন চাষে ব্যাপক সাফল্য মালদহের কৃষকের
প্রগতিশীল কৃষক মনতোষ রাজবংশী জানান যে, মূলত দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যগুলিতে চাষ করা হয় মাস্কমেলনের এবং ওই অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ফলটির। মাস্কমেলন গাছের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, এটি ন্যূনতম পরিচর্যাতেই ভালো ফলন দেয়। বর্ষাকালে মাত্র একবার সেচের জল পেলেই গাছগুলো দ্রুত বেড়ে ওঠে। মাচায় বেঁধে চাষ করলে এর ফলন বাড়ে, আবার শুষ্ক মরশুমে মাটিতে সহজেই উৎপাদন করা সম্ভব। তাঁর প্রতিটি গাছে এখন অনেক ফল ধরছে, যেগুলোর ওজন প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোগ্রামের মধ্যে।
আরও পড়ুনঃ বিনা শরীরচর্চায় পুজোর আগে ওজন কমাতে চান? জেনে নিন ৫ সহজ উপায়
মালদা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের (KVK) প্রধান দুষ্যন্ত কুমার রাঘব জানান, মাস্কমেলন পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল এবং বাজারে এর চাহিদা তৈরি সম্ভাবনাও ব্যাপক। যদিও মালদহ বিখ্যাত আম ও লিচুর মতো বিভিন্ন গ্রীষ্মকালীন ফলের চাষের জন্য, তাই মাস্কমেলনের মতো উচ্চমূল্যের ফল এখানে এখনও সেভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেনি। কৃষকদের আয় বাড়াতে সাহায্য করার জন্য কেভিকে বিকল্প ফসলের উৎপাদনের ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে বলেও জানান কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান।
আরও পড়ুন: ছোটবেলা থেকেই দৃষ্টিশক্তি ক্ষীন, তবুও না হেরে দু’বার UPSC ক্র্যাক অটোচালকের ছেলের
বর্তমানে, স্থানীয় বাজারে মাস্কমেলনের দাম কেজি প্রতি ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা। তবে, অন্যান্য রাজ্যে উচ্চ চাহিদার কারণে সেখানে এর দাম প্রতি কেজিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে কৃষি বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন যে, এটি খুব দ্রুত একটি জনপ্রিয় ও লাভজনক বিকল্প ফসল হয়ে উঠতে পারে এটি। মনোতোষ জানান, তাঁর চাষ করা ফল এখন তিনি শিলিগুড়ি ও কলকাতার বাজারে বিক্রি করছেন। এক বিঘাতে আনুমানিক ২ লক্ষ টাকা করে উপার্জনের লক্ষ্য তাঁর। মালদহের অনেক কৃষক আশা করছেন যে, জেলার মাটিতে এই ধরনের ফসলের চাষ ভবিষ্যতে কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করবে।










