সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বর্ষা কাটলেও অতি ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দুই বঙ্গ। নিউ ফারাক্কার কাছাকাছি রেললাইন ধসে ব্যাহত উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ। এর পাশাপাশি দুর্গাপুর এবং ফারাক্কা, দুই ব্যারেজ থেকেই ছাড়া হচ্ছে জল। তবে ডিভিসি অতিরিক্ত পরিমাণ জল ছাড়াই গতকাল প্লাবিত হয়েছে হুগলির খানাকুল এবং হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর (Udaynarayanpur) ও আমতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। যদিও বর্তমানে কিছুটা হলেও আশঙ্কামুক্ত হয়েছে উদয়নারায়ণপুর।
বন্যা পরিস্থিতি উদয়নারায়ণপুর ও আমতায়
গতকাল উদয়নারায়ণপুর সহ চারপাশের এলাকায় তৈরি হয় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। ওই ব্লকের আনুমানিক চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা দামোদরের জলে প্লাবিত হয়েছিল বলেই খবর। এমনকি ৫০০-র বেশি মানুষ বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। জগৎপুর থেকে শুরু করে ধলভাঙা, সুন্দরপুর, হানুয়াসহ একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের বহু গ্রাম জলের তলায় চলে যায়। পাশাপাশি রাস্তায় জল জমে থাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। এমনকি বিপদের আশঙ্কায় বন্ধ করে দিতে হয় স্কুল। খাবার এবং পানীয়র ঘাটতিও মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়ায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কচুরিপানা সহ নদীর জল গোটা গ্রামকে প্লাবিত করে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি রাস্তাঘাট জলমগ্ন হওয়ায় পাঁচারুল ও হাওড়া রুটে বাস পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছিল বলে খবর। আশেপাশের এলাকার মানুষজন ত্রিপল টাঙিয়ে বসবাস শুরু করেছেন। পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলির সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে স্বস্তির খবর এই যে, ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ কমানোয় রাতের দিকে জলস্তর কিছুটা হলেও কমেছে।
আরও পড়ুন: অভয়ার বাবাকে জেলে ঢোকানোর হুঁশিয়ারি সোমনাথ দে’র আইনজীবীর
আপাতত বিপদমুক্ত হয়েছে উদয়নারায়ণপুর। কিন্তু তৎসংলগ্ন এলাকাগুলি এখনও জলের তলায়। সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এবং মানুষজন আপাতত ত্রাণ শিবিরেই রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, “হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর এবং আমতার কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডিএম এবং এসপি কাজ করছেন। আমতার বিধায়ক ওই এলাকায় রয়েছেন। তিনি সবটা দেখাশোনা করছেন। এছাড়া হুগলির গ্রামীণ এলাকায় ৭টি ব্লক এবং ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি সামলে নেব। জল ছাড়ার মাত্রা কমেছে, বৃষ্টিও কমেছে।”










