প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভার (WB Assembly) স্পিকারের সিদ্ধান্তে নয়া মোড়, অবশেষে খানিকটা স্বস্তি পেলেন ঋতব্রত শিবির। সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ১০ জন দলত্যাগী বিধায়কের পদ বাতিলের আর্জি জানিয়ে স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay)। কিন্তু বহু তর্ক এবং আলোচনার পর অবশেষে আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রথীন্দ্র বসু (Rathindra Basu) প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে সেই আবেদন খারিজ করে দিলেন। একইসঙ্গে আবেদনকারীকে আইন ও নির্ধারিত বিধি মেনে নতুন করে পিটিশন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
অসুস্থতার মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত স্পিকারের
আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ ছিল, ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এই সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে হবে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে। কিন্তু ব্যক্তিগত কাজের সূত্রে স্পিকার বিদেশে গিয়েছিলেন। এমনকি সেখান থেকে কলকাতায় ফিরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাঁকে। ফলে প্রশ্ন উঠছিল আদালতের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে স্পিকার তাঁর সিদ্ধান্ত জানাতে পারবেন কিনা। তবে অসুস্থতার মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন স্পিকার। বুধবার বিকেলে হাসপাতাল থেকেই তিনি উভয় পক্ষকে তলব করে শুনানির চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
নিয়ম মেনে করা হয়নি আবেদন
জানা গিয়েছে, গতকাল, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধানসভায় স্পিকারের ঘরে মুখোমুখি আলোচনায় বসেছিলেন শোভনদেব এবং বিরোধী দলনেতা-সহ ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়ক। দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি ও আইনি ব্যাখ্যা শোনেন স্পিকার। এরপর রাতেই প্রকাশ্যে আসে স্পিকারের ১১ পাতার রায়। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট আইনের ৭(২) ধারা অনুযায়ী শোভনদেবের আবেদনটি নিয়ম মেনে জমা পড়েনি। সংযুক্ত নথিতে শুধু স্বাক্ষর থাকলেই আইনের শর্ত পূরণ হয় না। মূল আবেদনের মতো সবকটি নথিই পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সেই বাধ্যতামূলক পদ্ধতি পূরণ না হওয়ায় আবেদনটি বিধিসম্মত হয়নি।
ভবিষ্যতে পিটিশন দাখিলের সুযোগ
স্পিকার রথীন্দ্র বসু স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি শুধুই প্রক্রিয়াগত ভুলের কারণে খারিজ হয়েছে, মূল বিষয়ের সত্যতা বিচার করা হয়নি। ফলে নিয়ম মেনে শোভনদেব চাইলে ভবিষ্যতে নতুন করে আর্জি জানাতে পারেন। এই সিদ্ধান্তের পর দু’পক্ষেই তৎপরতা তুঙ্গে। ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের আইনজীবী সুমিতাভ চক্রবর্তী জানান, শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দশটি আবেদনের শুনানি একসঙ্গে করা হলেও প্রতিটির ক্ষেত্রে পৃথক সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু স্পিকার দশটি আবেদন একসঙ্গে শুনানির সিদ্ধান্ত নেন। তবে প্রতিটি পিটিশনের বিষয়ে পৃথক সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা জানান।
আরও পড়ুন: LPG ব্যবহারকারীরা পাবেন ৫০০ টাকা, জানুন কারা যোগ্য?
ক্ষুব্ধ শোভনদেব
স্পিকারের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতাপন্থী বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান “আবেদনে পদ্ধতিগত ভুল থাকলে তা শুরুতেই কেন খারিজ করা হল না? স্পিকার উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানি করলেন, নথি গ্রহণ করলেন কিন্তু এত দিন ঝুলিয়ে রাখার পর এই সিদ্ধান্ত তাহলে কেন নেওয়া হল?” যদিও স্পিকারের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বিধানসভার অন্দরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত অধিকার স্পিকারের রয়েছে। সাংবিধানিক পদমর্যাদার ভিত্তিতে তিনি যে নির্দেশ দিয়েছেন, তাকে স্বাগত জানাই।”










