বকেয়া DA-এর পুরোটা দেবে না সরকার, ১৫% মকুব করার আর্জি সুপ্রিম কোর্টে

Published:

Dearness Allowance case SC

অনন্যা সরকার, কলকাতা: বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (Dearness Allowance) ১০০ শতাংশই পাবেন না সরকারি কর্মচারীরা, সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) স্টেটাস রিপোর্টে এমনটাই জানিয়ে দিল রাজ্য সরকার। যা ডিএ (DA) বাকি রয়েছে, তার ৮৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে সম্মত হয়েছে রাজ্য। বাদবাকি ১৫ শতাংশ ছাড় চেয়ে শীর্ষ আদালতের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে। সরকারের তরফে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, আসন্ন ২০২৮ সালের মধ্যে মোট চার দফায় বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তবে রাজ্যের উপর বিপুল আর্থিক বোঝা থাকায় ১০০ শতাংশই মেটাতে অসমর্থ সরকার। 

১০০% বকেয়া DA দেবে না সরকার 

ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আগেই রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র ১০০ শতাংশই মিটিয়ে দিতে হবে। এই সম্পর্কে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতেও বলা হয়। বুধবার সেই রিপোর্ট কোর্টে জমা দিয়েছে সরকার। সেখানে বকেয়া ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রে ১৫% ছাড় চাওয়া হয়েছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-এর দরুন মোট ১১ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা চার কিস্তিতে পরিশোধ করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। প্রথম কিস্তির ৭ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা চলতি মাসেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর বাকিটা ধাপে ধাপে দিয়ে দেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন: ৭ম বেতন কমিশন ও DA নিয়ে ঘোষণায় খুশি সরকারি কর্মীরা? জানালেন নিজেরাই

স্টেটাস রিপোর্ট অনুযায়ী, দ্বিতীয় কিস্তিটি ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে, তৃতীয় কিস্তি ২০২৭-এর জুলাই মাসে এবং চতুর্থ কিস্তি ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাসে দেওয়া হবে। ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল এবং ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দুটি ভাগ করে বকেয়া ডিএ-র টাকা মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। তবে সরকারের দাবি, এই প্রক্রিয়াটি অনেকটাই জটিল। প্রত্যেকটি কর্মীর ১৪১ মাসের বকেয়া টাকার পরিমাণ হিসাব করতে হচ্ছে। 

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে লক্ষ লক্ষ কর্মচারী এবং পেনশনভোগী রয়েছেন। তাঁদের জন্য ৯০টি ট্রেজারি থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে। আবার সরকারের বিভিন্ন দফতরের বেতন কাঠামো আলাদা, ফলে পৃথকভাবে গণনা করতে হচ্ছে। এই সমস্ত কারণে প্রতিটি কর্মচারীকে বকেয়া ডিএ মেটাতে সময় লাগছে। এছাড়া নয়া সরকার দাবি করেছে যে, ২০১৬ সালের আগে কর্মীদের বেতনের তথ্য কম্পিউটারে নথিভুক্ত নেই। ওই সমস্ত হিসেব খাতা থেকে নিয়ে ডিজিটাইজ করে হিসেব করতে আরও বেশি সময় লাগছে। এর জন্য নতুন পোর্টালও খুলেছে রাজ্য।

স্টেটাস রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার সরকারি কর্মীর ডিএ বকেয়া রয়েছে। তাদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে ই-সার্ভিস বুক (e-Service Book)। যার  জন্যেও অতিরিক্ত সময় লাগছে বলে জানিয়েছে রাজ্য। বর্তমানে সরকারের ওপর বিপুল খরচ এবং আর্থিক বোঝা চেপে আছে, তাই বকেয়া ডিএ-এর কিছুটা ছাড় দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। সরকারি কর্মীদের ডিএ দেওয়া হয় ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির ক্ষতিপূরণ হিসাবে। তবে মূল্যবৃদ্ধির ১০০ শতাংশই যে দিতে হবে, তার কোনো মানে নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে সরকার। 

আরও পড়ুন: বাংলায় ৭ম বেতন কমিশনের অনুমোদন, ৪ সদস্যের কমিটি গঠন রাজ্য সরকারের

এছাড়া, জিএসটি (GST) থেকে রাজ্যের আয় এখন কমেছে। এবছর বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন বিপুল পরিমাণে টাকা খরচ হয়েছে। তাই সরকারের উপর বিভিন্ন দিক থেকে অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে। সেই দিকটি বিবেচনা করে শীর্ষ আদালতে বকেয়া টাকার ১৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার আবেদনটি বিচার করে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলায় সরকারি কর্মীদের একটি অংশের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন ফিরদৌস শামিম। তাঁর মতে, রাজ্যের অধিকার রয়েছে আবেদন জানানোর। কিন্তু তাদের দাবি ১০০ শতাংশ ডিএ-ই যত দ্রুত সম্ভব মিটিয়ে দেওয়া হোক।