NDA-র শরিক হতে চায় ২০ তৃণমূল সাংসদ, লোকসভার স্পিকারকে চিঠি

Published:

Trinamool Congress

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্রমেই ভাঙন বাড়ছে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। সকাল থেকেই উত্তপ্ত দিল্লি, লোকসভার মতো একই পরিস্থিতি দেখা যেতে চলেছে রাজ্যসভাতেও। এমতাবস্থায় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, আজ, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা করল তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদরা। জানা গিয়েছে, কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) এক্ষেত্রে মুখ্য সচেতক হিসেবে চিঠি জমা দিয়েছেন। এবং সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে বিদ্রোহীরা তৃণমূলের সঙ্গে থাকতে চান না। বদলে NDA ব্লকের যোগ দিতে চান তাঁরা।

দিল্লিতে গোপন বৈঠক ২১ বিদ্রোহী সাংসদদের

বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার রদবদল হতেই ভেঙে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিছুদিন আগেই জাল সই কাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিষদীয় দলের ‘মালিকানা’ হাতছাড়া হয়েছে তৃণমল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ৫৮ জন বিধায়কই নেত্রীর সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। আর এবার নজরে সংসদীয় দল। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের মাঝেই ভেঙে টুকরো হয়ে গেল তৃণমূলের সংসদীয় দল। রবিবার দিল্লিতে গোপন বৈঠক করেন তৃণমূলের অন্তত ২১ বিদ্রোহী সাংসদ। তালিকায় ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, অসিত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ চক্রবর্তী সহ আরও বেশ কয়েকজন।

NDA তে যোগ দিতে চান সাংসদরা

জানা গিয়েছে, আজ সকালেই নাকি বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতেও গিয়েছিলেন তাঁরা। নজরকাড়া বিষয় হল সেখানেই উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলস্বরূপ তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, আজ বঙ্গ রাজনীতিতে এক বড় কাণ্ড করতে চলেছে। এবার সেই জল্পনাই সত্যি হল। কয়েকঘণ্টার মধ্যেই লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ২০ সাংসদ তৃণমূলের সঙ্গে থাকতে চান না। তাঁরা NDA তে যোগ দিতে চান। এছাড়াও স্পিকারের কাছে বিদ্রোহীরা মুখ্য সচেতক হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে দেখতে চান বলেও জানানো হয়। ফলে লোকসভার দলনেতা থাকবেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: আগামী দু-তিন দিনেই রাজ্যের উত্তরে বর্ষা, দক্ষিণবঙ্গে কবে ঢুকবে মৌসুমী বায়ু?

এই মুহূর্তে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের কারণে দিল্লিতেই রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সঙ্গে রয়েছেন অভিষেকও৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত দিল্লি গিয়েও দলের ভাঙন আটকাতে ব্যর্থ হলেন তাঁরা। সাংসদদের অভিযোগ, “রাজ্যে উন্নয়নমূলক কাজ থমকে আছে। সংগঠনের অন্দরে রয়েছে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও দুর্নীতির অভিযোগ। দলকে রিপোর্ট দিলেও সেই রিপোর্ট নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। আর তাই আজ এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি আমরা।” এখন দেখার এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী সিদ্ধান্ত নেন।