বন্ধ হচ্ছে ১.৫ কোটির বেশি রেশন কার্ড, আপনি তালিকায় আছেন কিনা জানুন

Published:

silent ration card 1

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দেশজুড়ে রেশন কার্ডের (Ration Card) সমস্ত তথ্য আরও একবার যাচাই ও সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র (Central Government), নিষ্ক্রিয় কার্ডের উপভোক্তাদের নতুন করে e-KYC করতে হবে। গত ছ’মাস ধরে যে রেশন কার্ড ব্যবহার করে কোনও খাদ্যশস্য তোলা হয়নি, সেই কার্ডগুলিকে ‘সাইলেন্ট রেশন কার্ড’ (Silent Ration Card) হিসেবে চিহ্নিত করে সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এমন কার্ডের সংখ্যা প্রায় ১.৫৮ কোটি। তবে এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১ অক্টোবর (October) থেকেই সব কার্ড স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে যাবে এমন নয়। কেন্দ্রের নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা SOP অনুযায়ী, প্রথমে সংশ্লিষ্ট কার্ড সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করা হবে। এরপর প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের জন্য থাকবে তিন মাসের e-KYC রেভ্যালিডেশন-এর সুযোগ।

কেন নেওয়া হল রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় করার সিদ্ধান্ত?

জানা যাচ্ছে পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম বা PDS-এর তথ্যভাণ্ডারকে আরও নির্ভুল করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়া কার্ডের পাশাপাশি অনুপযুক্ত ব্যক্তির তথ্যগুলিও খুঁজে বের করে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রের ডিপার্টমেন্ট অফ ফুড এন্ড পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ‘silent’ ও ভুয়ো কার্ডগুলিকে শনাক্তকরণের জন্য নতুন পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে। এর আওতায় আগে সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করা এবং পরে e-KYC-এর মাধ্যমে পুনরায় যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থাটি SMART-PDS-এ ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে চালু হওয়ার কথা। অর্থাৎ, ছ’মাস বা তার বেশি সময় রেশন না নেওয়া কার্ডগুলিকে প্রথম ধাপে সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করা হতে পারে। কেরলের ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন নিয়ে আলাদা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে ছ’মাসের বেশি সময় রেশন না নেওয়া কার্ডগুলিকে ফ্রিজ করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং পরবর্তী পর্যায়ে আরও কার্ড এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারে।

কার্ড বন্ধ হয়ে গেলে কী করতে হবে?

কোনও প্রকৃত উপভোক্তার কার্ড এই তালিকায় চলে এলে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। কেন্দ্রের SOP অনুযায়ী, তিন মাসের e-KYC রিভ্যালিডেশন উইন্ডো থাকবে। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি যাচাই সম্পূর্ণ করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলে কার্ড পুনরায় চালু করার সম্ভব হবে। কেরলের ক্ষেত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কার্ডের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি সদস্যের বায়োমেট্রিক e-KYC সম্পূর্ণ করার কথা বলা হয়েছে। সেখানে ৯০ দিনের মধ্যে e-KYC শেষ না হলে পরবর্তী পর্যায়ে কার্ড বাতিল হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে রাজ্যভেদে বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় পার্থক্য থাকতে পারে।

শুধু দীর্ঘদিন রেশন নেওয়া হয়নি বলে কোনও প্রকৃত উপভোক্তাকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়াটা কেন্দ্রের উদ্দেশ্য নয়। তাই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করে পুনরায় যাচাইয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন অন্য জায়গায় থাকা বা কোনও কারণে নির্দিষ্ট সময় রেশন না নেওয়া উপভোক্তাদের ক্ষেত্রে e-KYC-এর মাধ্যমে নিজেদের তথ্য যাচাই করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এই কারণেই ‘কার্ড বন্ধ’ এবং ‘কার্ড স্থায়ীভাবে বাতিল’ এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখা ঠিক হবে না।

আরও পড়ুন: কুয়াশার কারণে সাঁতরাগাছি থেকে বাতিল হয়ে গেল এই ২ এক্সপ্রেস, দেখুন তালিকা

আপনার রেশন কার্ডও কি তালিকায় থাকতে পারে?

যদি আপনার রেশন কার্ড দিয়ে টানা ছ’মাস বা তার বেশি সময় রেশন তোলা না হয়ে থাকে, তাহলে নতুন ব্যবস্থার আওতায় সেটি ‘silent ration card’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শুধুমাত্র এই তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায় না যে আপনার নির্দিষ্ট কার্ডটি ইতিমধ্যেই তালিকায় রয়েছে। তাই নিশ্চিত হতে নিজের কার্ডের বর্তমান স্ট্যাটাস এবং e-KYC সংক্রান্ত তথ্য নিজের রাজ্যের PDS ব্যবস্থায় যাচাই করে নিতে পারেন। কারণ কেন্দ্রীয় নিয়ম থাকলেও বাস্তবায়নের ধাপ রাজ্যভেদে আলাদাভাবে হয়ে থাকে।

google button