গাজিপুরের গঙ্গায় জোড়া রুপালী শস্য, কয়েক দশক পর উত্তরপ্রদেশে মিলল ইলিশের দেখা

Published:

Ilish in Uttarpradesh

অনন্যা সরকার, উত্তরপ্রদেশ: গতকালই দিঘার মোহনায় এসেছে টন টন ইলিশ (Ilish) ভর্তি ট্রলার। বাঙ্গালীর অন্যতম প্রিয় মাছের যোগান এবার ধীরে ধীরে বাড়ছে বাজারগুলিতে। এর মধ্যেই এবার আরও একটি সুখবর এল। তবে তা বাংলা থেকে নয়, এরাজ্যের কয়েকশো কিলোমিটার দূরের উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থেকে। গাজিপুরের গঙ্গায় দেখা মিলেছে রাজা ইলিশের। ফারাক্কার বাঁধ তৈরি হওয়ার পর থেকে গত কয়েক দশকে গঙ্গার মধ্য ও উচ্চ অববাহিকা থেকে ইলিশ প্রায় উধাও হয়ে গিয়েছিলই বলা চলে। তবে এখন জোড়া ইলিশের দেখা পাওয়ায় অনেকেই আশার আলো দেখছেন। যদিও বিজ্ঞানীরা বলছেন দুটি মাছের উপস্থিতি ওই অঞ্চলে এই মাছের ফিরে আসার জোরালো ইঙ্গিত হতে পারে না। 

উত্তরপ্রদেশের গঙ্গায় মিলল ইলিশের দেখা 

একটা সময় উত্তরপ্রদেশের গঙ্গায় ইলিশের দেখা মেলা কোনও আশ্চর্য ঘটনা ছিল না। তবে ১৯৭০-এর দশকে ফারাক্কা বাঁধ চালু হওয়ার পর থেকেই গঙ্গার স্বাভাবিক জলপ্রবাহ বদলে যায়। বর্ষায় সমুদ্র থেকে নদীতে যাতায়াত করা ইলিশ মাছের প্রজননযাত্রার অভিমুখও পাল্টে যায়।  এছাড়াও নদীর চরিত্র পরিবর্তন, দূষণ, জনসংখ্যার চাপের প্রভাবে ধীরে ধীরে গঙ্গার উচ্চ ও মধ্য অববাহিকায় আনাগোনা বন্ধ হয় ইলিশের। 

আরও পড়ুন: দিঘার মোহনায় এল আড়াই টন ইলিশ ভর্তি ট্রলার, কত দাম জেনে নিন

তবে গাজ়িপুরে নমামি গঙ্গে প্রকল্পের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে বিজ্ঞানীরা এখানে দু’টি ইলিশের সন্ধান পেয়েছেন। যদিও এগুলি সর্ম্পকে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (CIFRI) তরফে জানানো হয়েছে যে, গাজিপুরে পাওয়া জোড়া ইলিশ দুটির মোট ওজন প্রায় ৭৪০ গ্রাম।

বহু বছর দেরি হলেও এই অঞ্চলে ইলিশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফারাক্কার পাশাপাশি গঙ্গায় মাছের যাতায়াতের পথ খুলে দিতে ‘ফিশ ল্যাডার’ (Fish Ladder) তৈরি করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। আপার যমুনা রিভার বোর্ড উত্তরপ্রদেশের ওখলা ব্যারাজ, দিল্লির ওয়াজিরাবাদ এবং হরিয়ানার হাতনিকুণ্ডতে এরকম ব্যবস্থা তৈরির সুপারিশ করেছে। সিফরির প্রয়াগরাজ দপ্তরের অধিকর্তা বি আর চভন জানিয়েছেন, ইলিশ মাছ ফেরাতে সিফরি এবং জাতীয় স্বচ্ছ গঙ্গা মিশন মাছের ‘র‌্যাঞ্চিং’, ‘ট্যাগিং’ ও নজরদারি চালাচ্ছে। ফারাক্কা ব্যারেজের কাছে যেসমস্ত ট্যাগ করা ইলিশকে ছাড়া হয়, সেগুলিকে উত্তরপ্রদেশের কয়েকশো কিলোমিটার দূরত্বে খুঁজে পাওয়া গেছে। 

আরও পড়ুন: পাইপের জল ব্যবহারে এবার দিতে হবে কর! কত করে ট্যাক্স চাপাবে রাজ্য সরকার?

ওই অঞ্চলে ইলিশ পাওয়া প্রসঙ্গে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক ও মৎস্য বিশেষজ্ঞ নীতা সেহগল বলেন, সমুদ্রে ও উপকূলের নোনা জলে জীবনচক্রের বেশির ভাগ সময় কাটিয়ে কেবল প্রজননের সময় নদীর মিষ্টি জলে আসা ইলিশ মাছের নদীতে উপস্থিতি জলজ স্বাস্থ্যের উন্নতির অন্যতম সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই গাজিপুরে ইলিশের দেখা মেলা গঙ্গা দূষণ কমার একটি ইঙ্গিত বলে মনে করছেন তিনি। 

আরও Ilish Uttar Pradesh