গলছে সম্পর্কের বরফ? তারেকের সাথে সাক্ষাৎ ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদীর

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের (Bangladesh) সাথে ভারতের সম্পর্ক বয়ে যায় অন্য খাতে। ওপার বাংলায় তারেক রহমানের (Tarique Rahman) নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও কাটেনি দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কের জটিলতা। প্রশ্ন উঠছিল, ঠিক কবে আবার আগের অবস্থায় ফিরবে নয়া দিল্লি এবং ঢাকার সম্পর্ক? ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলা সর্বত্র যখন সেই প্রশ্নের খোঁজ চলছে, ঠিক সেই সময় সোমবার, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে তাঁর সচিবালয়ে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎ দুপক্ষের সম্পর্কের বরফ গলিয়ে দেবে বলে মনে করছেন একাংশ।

গলাতে চলেছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বরফ?

2024 সালে ছাত্র আন্দোলনের মুখে পড়ে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছিলেন শেখ হাসিনা। তারপর থেকেই ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্কে দেখা যায় দীর্ঘ-ফাটল। পরবর্তীতে ওপার বাংলায় ক্ষমতার হাত বদল হতেই মহম্মদ ইউনূস জামানায় বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের ভুরিভুরি অভিযোগ উঠে এসেছিল। তাতে ভারতের সাথে আরও খারাপ হয়েছে সম্পর্ক। হিন্দু অত্যাচার বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। সেইসব অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে পারেনি বর্তমান তারেক রহমান সরকারও।

 

এছাড়াও বাংলাদেশের সাথে একাধিক ইস্যুতে তৈরি হয়েছে সমস্য। সেই জল গড়িয়েছে ক্রীড়া ক্ষেত্রেও। এমনকি গঙ্গা জল বন্টন চুক্তি নিয়েও আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা বাড়ছে। ডিসেম্বরে শেষ হতে যাওয়া চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ভারতের কাছে ঢাকা থেকে আবেদন এলেও পরবর্তীতে সেই চুক্তি পুরোপুরি নবায়ন করা যাবে কিনা তা নিয়ে আপাতত ধোঁয়াশা রয়েছে। এদিকে দিল্লি থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক মন্তব্য করেছেন হাসিনা। তাতে দু’দেশের সম্পর্কের তিক্ততা বেড়েছে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না!

অবশ্যই পড়ুন: “আমরা ম্যাচ হারলে নাচতো!” ভারতীয় দলের সেই প্লেয়ারের নাম ফাঁস করলেন শামি

বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত থেকে হাসিনার নানান মন্তব্য কাঁটার মতো বিঁধছে তারেক সরকারকে! ঠিক সেই পরিস্থিতিতে সোমবার, তারেক রহমানের সচিবালয়ে ওপার বাংলার প্রধানমন্ত্রী সাথে দেখা করলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী। যদিও তারেকের সাথে দেখা করার আগেই এক বক্তব্যে দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছিলেন, “সমস্যার সমাধান তখনই সম্ভব যখন আমরা একে অপরের সাথে কথা বলি।” বৈঠকের পর বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা জানালেন, ভারতের মতো বাংলাদেশেও আলোচনার মাধ্যমে সমস্ত সমস্যা মিটিয়ে এগিয়ে চলতে চায়! আশা করা যাচ্ছে, তারেক-দীনেশ সাক্ষাৎ আগামী দিনে দু পক্ষের সম্পর্কের রাস্তা প্রশস্ত করবে।

google button