সহেলি মিত্র, কলকাতা: নেপালে আকস্মিক বন্যায় (Nepal Flash Flood) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪৬৯। চলতি সপ্তাহের শুরুতে নেপালে আঘাত হানা বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা হু হু বেড়েই চলেছে। স্বজন হারানো কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মানুষ। শুক্রবার নেপাল পুলিশ এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে নিহতদের সরকারি পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছে।
নেপাল বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, ভোতে কোশি-ত্রিশূলী করিডোরের আশেপাশের জলে ভেসে যাওয়া বা আটকে পড়া কয়েকশো মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ৯১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের (এমইএ) একটি মূল্যায়নও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত ২৮৮ জন ভারতীয় নাগরিকের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সীমান্তের ওপারে তিব্বতে, চিন কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৫৫৮ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর জানিয়েছে। বেইজিং দেশভিত্তিক পরিসংখ্যান প্রকাশ না করায়, নিখোঁজদের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন ভারতীয় বা অন্য দেশের নাগরিক, তা স্পষ্ট নয়। এছাড়াও, প্রায় ২০০ জন ভারতীয় তিব্বতে আটকে পড়ে আছেন। এই বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন যে, নেপালে নিখোঁজ ২৮৮ জন ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ৭৩ জন ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত কর্মচারী।
আরও পড়ুনঃ এনডিএ-র ক্ষতি! আজ ভোট হলে কটা আসন পাবে বিজেপি, কংগ্রেস? নতুন সমীক্ষায় চমকপ্রদ তথ্য
রাস্তা না থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলোকে মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। নিখোঁজদের মধ্যে তিব্বতের কৈলাস পর্বতে ভ্রমণকারী বা সেখান থেকে ফেরা পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের দলও রয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ ও কেরালার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত তামিলনাড়ুর ২১ জন পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করে কাঠমান্ডুতে আনা হচ্ছিল। তিব্বত অঞ্চলে আটকে পড়া আরও ২০০ জন ভারতীয়ও আলাদাভাবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন করেছেন।
ভারতেও সতর্কতা জারি
গত বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ভেঙে ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট হয় বিধ্বংসী বন্যা ও ধ্বংসস্তূপ। তিব্বতের লেন্দে নদীর উপর রাসুয়াগড়ি সীমান্ত থেকে ১৮ কিলোমিটার উজানে একটি নতুন প্রতিবন্ধক হ্রদ তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, এতে প্রায় ২ বিলিয়ন লিটার জল রয়েছে। এই বন্যায় বহু এলাকার পরিবহন পরিকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে নেপালের রাসুয়ায় ভটেকোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যার কারণে উত্তর প্রদেশ ও বিহারের কর্তৃপক্ষ উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। জেলা প্রশাসন গন্ডক, নারায়ণী ও কোসি নদীর জলস্তরের ওপর ক্রমাগত নজর রাখছে। উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর সহ বিহারের সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।










