পড়াশোনায় বাধা দিয়েছিল গ্রামবাসী, UPSC ক্র্যাক করে IAS হয়ে যোগ্য জবাব চাষির মেয়ের

Published:

UPSC Success Story of IAS Priya Rani

অনন্যা সরকার, বিহার: কঠোর পরিশ্রমের সাথে যদি যুক্ত হয় দৃঢ় সংকল্প, তাহলে কোনও বাধাই বাধা নয়। দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এবং কঠিন পরীক্ষা, ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসে (UPSC Civil Service) উত্তীর্ণ হয়ে এমনটাই প্রমাণ করে দেখিয়েছেন বিহারের প্রিয়া রানী (UPSC Success Story of IAS Priya Rani), যিনি তাঁর  উচ্চবেতনের চাকরিই ছেড়ে, গ্রামের মানুষের বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েও সমস্ত প্রতিকূলতাকে এক তুড়িতে উড়িয়ে দিয়ে ইউপিএসসি-তে সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক (AIR) ৬৯ অর্জন করে একজন সফল আইএএস (IAS) অফিসার হয়েছেন। আসুন তাঁর নেই সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।

সকল বিরোধিতার বিরুদ্ধে গিয়ে ইউপিএসসি জয় প্রিয়ার

প্রিয়া রানী বিহারের ফুলওয়ারি শরিফের কুরকুরি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বড় হয়ে ওঠা এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে। বাবা চাষাবাদ করেন, আর মা একজন গৃহবধূ। প্রিয়া জানান যে, প্রায় দু’দশক আগেও তাঁর গ্রামে নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা ছিল। যখন তাঁর দাদু ও বাবা তাঁকে ভালোমানের শিক্ষা প্রদানের জন্য পাটনা নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন গ্রামের অনেকেই এর বিরোধিতা করেছিলেন এবং তাঁর পড়াশোনা ছাড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে, তাঁর দাদু ও বাবা এবিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন এবং প্রিয়া তাঁর উচ্চশিক্ষা যাতে সম্পূর্ন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে পাটনায় একটি বাড়ি ভাড়া করেন তাঁর জন্য।

ছোট থেকেই মেধাবী ছিলেন প্রিয়া। তিনি রাঁচি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক (B. Tech) ডিগ্রি অর্জন করেন। ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে তিনি বেঙ্গালুরুর এক বেসরকারি কোম্পানিতে উচ্চ বেতনের চাকরিও পান। তবে, প্রিয়ার স্বপ্ন ছিল ভিন্ন। তিনি দেশ ও দশের সেবা করতে চেয়েছিলেন এবং বাবাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি একজন আইএএস অফিসার হবেন। আর সেই কথা রাখতেই, প্রিয়া তার ভালো মাইনের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ইউপিএসসি প্রস্তুতিতে পূর্ণ মনোযোগ দেন। 

আরও পড়ুন: “বিউটি উইথ ব্রেইন” তিনবছরে তিন বার UPSC ক্র্যাক, চতুর্থবারের প্রচেষ্টায় IAS হলেন অর্পিতা

আইএএস অফিসার হওয়ার তার এই যাত্রা মসৃণ ছিল না মোটেই। স্বপ্নপূরণের আশায় দিনরাত খাটতেন। পড়াশোনা করবেন বলে প্রতিদিন ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠতেন। তিনি অর্থনীতিকে (Economics) তার মূল বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন এবং স্কুলের পাঠ্যবই ও সংবাদপত্রের ওপর বিশেষভাবে মনোযোগ দেন। তাঁর এই কঠোর পরিশ্রম বিফলে যায়নি। তিনি প্রথম প্রচেষ্টায় ২০২১ সালের ইউপিএসসি সিএসই পরীক্ষায় সারা ভারতের মধ্যে ২৮৪ অর্জন করেন এবং তাঁকে ইন্ডিয়ান ডিফেন্স এস্টেটস সার্ভিস (IDES)-এর জন্য নির্বাচিত করা হয়।

আরও পড়ুন: সহ্য করেন বহু বিদ্রূপ ও কটাক্ষ, UPSC ক্র্যাক করে আজ IAS অফিসার কামারের ছেলে

কিন্তু প্রিয়ার চেয়েছিলেন একজন আইএএস অফিসার হতে। তাই তিনি আবারও পরীক্ষায় বসেন এবং ২০২৩ সালে সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক ৬৯ অর্জন করে বাবাকে দেওয়া কথা রাখেন ও আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্নপূরণ করেন। প্রিয়া রানীর এই সাফল্যের কাহিনী আজ দেশের বহু তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। প্রিয়া প্রমাণ করেছেন যে, বড় স্বপ্ন পূরণের জন্য বড় শহরে থাকা বা অনেক টাকা ফি দিয়ে কোচিংয়ের প্রয়োজন হয় না। দরকার শুধু নিষ্ঠা, অধ্যাবসায় ও দৃঢ় সংকল্পের।