বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty) আগেই স্থগিত করে দিয়েছে ভারত। তাতেই ঘুম উড়েছে পাকিস্তানের (Pakistan)! সাম্প্রতিক সময়ে নানান কৌশলে ভারতকে চুক্তি পুনর্বহাল করতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছে পশ্চিমের দেশ। হেগের আদালতে গিয়ে নিজেদের মতো করে সিন্ধু জল বন্টন চুক্তির বিষয়গুলি উপস্থাপন করেছে পাকিস্তান। যদিও এই আদালতের সমস্ত রায়ই উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। কাজেই কোনও দিক থেকেই ভারতকে সিন্ধু জল চুক্তি পুনরায় চালু করতে বাধ্য করতে পারছে না পাকিস্তান। এমতাবস্থায়, ইসলামাবাদ কী করবে তা নিয়েই পরামর্শ দিলেন ডাচ জল ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ উইলেম ভ্যান ড্যুরসেন।
সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি নিয়ে পরামর্শ পেল পাকিস্তান
1960 সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি। এই চুক্তির আওতায় 80 শতাংশ জলই পেতো পাকিস্তান। তবে গত বছর পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পরই এই জল বন্টন চুক্তি স্থগিত করে দেয় নয়া দিল্লি। যার জেরে জল সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে পশ্চিমের দেশকে! নতুন করে ভারতকে জল বন্টন চুক্তি পুনর্বহাল করতে নরমে গরমে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামাবাদ। শেষ পর্যন্ত না পেরে হেগের আদালতেও ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিল তারা। যদিও এই আদালতকে কোনও দিনই স্বীকৃতি দেয়নি ভারত। ফলে, এই আদালতের দেওয়া রায়ে পাত্তা দেয়নি নয়া দিল্লি।
ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যেকার সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি নিয়ে চলা বিবাদ প্রসঙ্গে এবার পশ্চিমের দেশের পক্ষ নিয়ে বিশেষজ্ঞ উইলেম ভ্যান ড্যুরসেন পাকিস্তানের সংবাদপত্র ফ্রাইডে টাইমসে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে লিখেছেন, “সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি কোনও অনুগ্রহ নয়। হেগ আদালত এই চুক্তির বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট এবং দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তাদের রায় জানিয়েছে। কিন্তু ভারত সেসব প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনটা করার কোনও অধিকার ভারতের নেই।”
এদিন ওই বিশেষজ্ঞ ভারতকে নিশানা করেই লেখেন, “2025 সালে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পরই সন্ত্রাসবাদীদের পাকিস্তানের সাথে যুক্ত করে এই চুক্তিটি স্থগিত করে দিয়েছিল ভারত। এভাবে সন্ত্রাসবাদীদের অজুহাত দেখিয়ে সিন্দুর জল আটকাতে পারবে না ভারত! চুক্তিটিতে কোনও প্রস্থানের ধারা নেই। আন্তর্জাতিক আইন ভারতকে একতরফাভাবে এই চুক্তি স্থগিত করার কোনও অধিকার দেয়নি।” সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানকে পরামর্শ দিতে গিয়ে ডাচ বিশেষজ্ঞ লিখেছেন, কোনও বড় বা নতুন চুক্তির জন্য অপেক্ষা না করে পাকিস্তানের ছোট ছোট এবং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: “বাংলার অভিশাপ, বিজেপির নেতা-মন্ত্রীদের শ্রীঘরে থাকতে হবে” দেশে ফিরেই হুঙ্কার অভিষেকের
ওই বিশেষজ্ঞ এও জানান, দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে পুনরায় আলোচনা এবং জল সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের কাজ শুরু করাই হতে পারে এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। তাঁর মতে, শুধুমাত্র আইনি লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে বিবাদ জারি রেখে এই সমস্যা মিটবে না। বরং দুপক্ষকে এক হয়ে এই সমস্যার সমাধান করার জন্য আলোচনা করতে হবে। আর সেটাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ! কাশ্মীর ইস্যুকে সামনে রেখে ওই বিশেষজ্ঞ প্রবন্ধের একেবারে শেষের দিকে লিখেছিলেন, “কাশ্মীর সমস্যা আর নদী ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। নদী ব্যবস্থাপনা পুনরায় শুরু করার জন্য কাশ্মীর সমস্যা মেটানো কোনও শর্ত হতে পারে না।”










