শুধু স্মিত নন, ১৭৪ জনের প্রাণ বাঁচিয়েছে এই ৬ বছরের খুদে! কীভাবে জানেন?

Published:

smit machchhar

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চরম বিপদের মধ্যেও নিজের জীবন বাজি রেখে ১৭৪ জন ইজরায়েলি নাগরিকের প্রাণ রক্ষা করেছেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর (Smit Machchhar)। তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতের প্রধানমন্ত্রীসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। তবে জানলে অবাক হবেন, শুধু ক্যাপ্টেন স্মিত নয়, বরং এই অসাধ্য সাধনের পিছনে রয়েছে ছয় বছরের এক খুদে হিরো। তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একেবারে সামনে বসেছিল মানেস পরিবার। আর তাঁদের সঙ্গেই ছিল ছোট্ট নিনা মানেস। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধির মাধ্যমেই ওই হামলাকারীর হাত থেকে রক্ষা পান ক্যাপ্টেন স্মিত।

খুদের উপস্থিত বুদ্ধিতে প্রাণ বাঁচল ১৭৪ জনের

নিউইয়র্ক টাইমসকে ফোনে ইজরায়েল থেকে একটি সাক্ষাৎকার দেন মানেস, যিনি দেশটির এক নামজাদা ব্যাংকের সিইও। জানা গিয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ফ্লাইটটি যখন মাঝ আকাশে, তখন মা টালি মানেসের সঙ্গে শৌচালয়ে গিয়েছিল ছোট্ট নিনা। পাশেই ছিল ককপিট। তবে শৌচালয়ের ভিতর থেকেই সে শুনতে পায় যে ককপিটের ভিতর কিছু একটা চলছে। কারা যেন ঝামেলা বা ঝগড়া করছেন, এমনটাই মনে হয় তাঁর। তৎক্ষণাৎ শৌচালয়ের দরজা খুলে নিনা চিৎকার করেন, “বাবা, আমরা মরতে চাই না।”

এরপর সামনের আসনে বসে থাকা মানেস দ্রুত ছুটে আসেন মেয়ের কাছে। সন্দেহ হতেই পৌঁছে যান ককপিটের কাছে। যদিও ততক্ষণে কোনও মতে নিজের সমস্ত শক্তি উজাড় করে ককপিটের দরজা খুলেছেন স্মিত। তবে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেই চিৎকার করে ওঠে নিনা। মানেস বলেন, “আমি এবং আরও দুই যাত্রী সহকারী পাইলটকে চেপে ধরি। ইয়ারফোনের তার দিয়ে অভিযুক্তের হাত বেঁধে ফেলি। তখন স্মিতের উপর বসে ছুরি দিয়ে কোপাচ্ছিল অভিযুক্ত।”

আরও পড়ুন: “৩ মাস জেল খাটতেও প্রস্তুত” মুম্বইয়ের আন্দোলন থেকে বিস্ফোরক অভিজিৎ দীপকে

এদিকে এই ঘটনায় ততক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। পাইলটের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে বিমানটি। তবে পরিস্থিতি দেখে এগিয়ে আসেন দুজন অফ-ডিউটি পাইলট। নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিমানটিকে তাঁরা নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করান। এরপর সেখানেই কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। ফ্লাইদুবাইয়ের তরফ থেকে একটি বিকল্প বিমান পাঠানো হলে তাতে চেপেই তেলআবিবে পৌঁছন যাত্রীরা।

google button