আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: গ্রীষ্মকাল পড়তেই গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করে মশার (Mosquito) উপদ্রব। বর্ষাকালে সেই সমস্যা আরও বাড়ে। মশা থেকে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে। তাই মশার উৎপাত কমানোর জন্য অনেকেই মশা মারার কয়েল, ধূপ, তেল ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এতে সাময়িকভাবে তাড়ানো গেলেও কিছুক্ষণ বাদে আবার মশায় ঘর ভরে যায়। সাধারণত নোংরা জলকেই মশার বংশবৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়। বাড়ির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জায়গাতেও সামান্য জল জমে থাকলে সেখানে মশা ডিম পাড়তে পারে। তাই ঘরের কয়েকটি জায়গা নিয়মিত নজরে রাখলে আপনিও মশার থেকে অনেকটাই মুক্তি পেতে পারেন।
গাছের টবের নিচের রাখা ট্রে
বাড়িতে গাছ লাগানোর শখ থাকলে টবের পাশাপাশি তার নিচে থাকা ট্রেতেও নজর দিন। গাছে জল দেওয়ার পর অতিরিক্ত জল ট্রেতেই জমে থাকে। সেই জল নিয়মিত ফেলে না দিলে মশার জন্য ওটাই উপযুক্ত জায়গা হয়ে উঠবে। তাই প্রতিদিন ট্রেটি দেখে জল জমে আছে কিনা পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজন হলে পরিষ্কার করে দিন।
কুলারে জমে থাকা জল
কুলার ব্যবহার না করলেও তার ভিতরে জল রেখে দেওয়া একেবারেই ঠিক নয়। দীর্ঘ সময় জল জমে থাকলে সেখানে মশা বংশবিস্তার করতে পারে। বিশেষ করে কুলার কয়েক দিন ব্যবহার না করার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকে জল ফেলে সেটি ভালোভাবে শুকিয়ে রাখুন।
ছাদ ও বারান্দায় রাখা কোনও পাত্র
ছাদ বা বারান্দায় রাখা বালতি, ড্রাম, বোতল কিংবা অন্য কোনও পাত্রে বৃষ্টির জল জমছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখুন। বাইরে পড়ে থাকা এমন পাত্রে অল্প জল জমলে তা অনেক সময় আমাদের চোখে পড়ে না। তাই ব্যবহার না করা পাত্রে জল জমে থাকলে খালি করুন এবং শুকনো অবস্থায় রাখুন।
ফ্রিজ ও সিঙ্কের আশপাশ
ফ্রিজের পিছনের অংশে অনেক সময় জল জমে থাকতে পারে। একইভাবে রান্নাঘরের সিঙ্কের ড্রেনের কাছেও কোনও কারণবশত জল জমে যেতে পারে। এই জায়গাগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং জমে থাকা জল সরিয়ে ফেলা প্রয়োজন। না হলে এখানেই মশাদের ডিম পাড়ার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি থাকে।
আরও পড়ুন: ২৩ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলার সব স্কুলে বিশেষ কর্মসূচি, নির্দেশিকা জারি শিক্ষা দপ্তরের
বাড়ির বাইরের নালা ও ছোট গর্ত
বাড়ির আশপাশে থাকা ছোট নালা, মেঝের গর্ত বা নিচু জায়গায় বৃষ্টির জল জমে থাকলেও মশা জন্মাতে পারে। জল খুব বেশি না হওয়ায় অনেক সময় বিষয়টি নজরে আসে না। কিন্তু ওইটুকু অংশই মশার বংশ বিস্তারের জন্য যথেষ্ট। তাই বাড়ির বাইরেও নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।










