আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বাজারে এখন অ্যালকালাইন ওয়াটারের (Alkaline Water) চাহিদা বেশ বেড়েছে। সাধারণ জলের তুলনায় বেশি পিএইচ থাকার কারণে এই জলকে ঘিরে স্বাস্থ্য (Health) সচেতন মানুষের মধ্যে আগ্রহও তৈরি হয়েছে। সাধারণত যে জলের পিএইচ ৭-এর বেশি, তাকে অ্যালকালাইন বা ক্ষারীয় জল বলা হয়। অনেক ধরনের অ্যালকালাইন ওয়াটারে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও অন্যান্য খনিজও থাকতে পারে। সর্বগুণ সমৃদ্ধ হওয়ায় এই জলের দাম ও আকাশ ছোঁয়া। কেবল সেলিব্রিটিদের হাতেই এই জলের বোতল দেখা যায়। তবে আর চিন্তা নেই। কেউ যদি অ্যালকালাইন ওয়াটার পান করতে চান, তাহলে আর দামি বোতল কেনার প্রয়োজন নেই। কয়েকটি সহজ পদ্ধতিতে বাড়িতেই অ্যালকালাইন ওয়াটার তৈরি করা যায়। জেনে নিন এমনই ৪টি উপায়।
১. বেকিং সোডা দিয়ে
বাড়িতে অ্যালকালাইন ওয়াটার তৈরির সবচেয়ে সহজ উপায়গুলির একটি হল বেকিং সোডা বা সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ব্যবহার করা। পানীয় জলে অল্প পরিমাণ বেকিং সোডা মিশিয়ে দিলে জলের পিএইচ কিছুটা বেড়ে যায়। এর জন্য প্রথমেই পরিষ্কার ও নিরাপদ পানীয় জল নিন। তাতে খুব অল্প পরিমাণ বেকিং সোডা দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
উল্লেখ্য, বেকিং সোডায় সোডিয়াম থাকে। তাই বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের এই পদ্ধতি ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
২. পিএইচ ড্রপস দিয়ে
বাজারে পাওয়া যায় এমন অ্যালকালাইন বা পিএইচ ড্রপ ব্যবহার করেও বাড়িতে জলকে অ্যালকালাইন করা যায়। এই ধরনের ড্রপসে সাধারণত ক্ষারীয় খনিজ থাকে, যা জলের পিএইচ বাড়াতে সাহায্য করে। এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানীয় জলে কত ফোঁটা দিতে হবে, তা প্যাকেটের নির্দেশনা দেখে ঠিক করতে হবে। নিজের মতো করে বেশি ড্রপ দেওয়া উচিত নয়। চাইলে পিএইচ পরীক্ষার স্ট্রিপ ব্যবহার করে জলের পিএইচ পরীক্ষা করে নেওয়া যেতে পারে।
এই পদ্ধতির একটি সুবিধা হল, এটি ব্যবহার করা সহজ এবং প্রতিবার আলাদা করে উপকরণ মাপার প্রয়োজন হয় না। তবে কোন ড্রপসে কী উপাদান রয়েছে, তা ভালোভাবে দেখে তারপরেই ব্যবহার করুন।
৩. অ্যালকালাইন ফিল্টার বা পিচার ব্যবহার করে
যাঁরা নিয়মিত অ্যালকালাইন ওয়াটার পান করতে চান, তাঁদের জন্য অ্যালকালাইন ওয়াটার ফিল্টার বা ফিল্টার পিচারের থেকে ভালো বিকল্প আর হতে পারে না। সাধারণ ফিল্টারের মতোই এতে জল ঢালা হয়। এতে বিশেষ ধরনের খনিজযুক্ত কার্টিজ থাকে যার মাধ্যমে জল ফিল্টার হয় এবং জলের পিএইচ কিছুটা বাড়িয়ে দেয়।
এই পদ্ধতিতে প্রতিদিন আলাদা করে বেকিং সোডা বা ড্রপ মেশানোর ঝামেলা নেই। তবে ফিল্টার বা কার্টিজ নির্দিষ্ট সময় অন্তর বদলাতে হবে। আর মনে রাখতে হবে, সব জল পরিশোধক পিচারই অ্যালকালাইন ওয়াটার তৈরি করে না। তাই কেনার সময় সেটি সত্যিই জলকে ক্ষারীয় করার জন্য তৈরি কি না, দেখে নিন।
৪. লেবু, শসা ও পুদিনা পাতা ব্যবহার করে
বাড়িতে সহজেই লেবু, শসা ও পুদিনা ব্যবহার করে তৈরি করতে পারেন অ্যালকালাইন ওয়াটার। এর জন্য প্রথমে এক লিটার পরিষ্কার পানীয় জল নিন। এবার একটি লেবু ও অর্ধেক শসা পাতলা করে কেটে জলের মধ্যে দিয়ে দিন। তার সঙ্গে কয়েকটি তাজা পুদিনা পাতা যোগ করে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর পাত্রটি কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন, যাতে লেবু, শসা ও পুদিনার স্বাদ ও গন্ধ জলে ভালোভাবে মিশে যায়। চাইলে রাতভর রেখেও পরের দিন পান করতে পারেন। অনেকেই আছেন যাঁরা পর্যাপ্ত জল পান করেন না, তাঁদের বেশি জল খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতেও এই পানীয় সাহায্য করতে পারে।
এখানে বলে রাখা ভালো, অ্যালকালাইন ওয়াটার পান করলেই শরীরের রক্তের পিএইচ উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যাবে, এমন ধারণা কিন্তু ঠিক নয়। ফুসফুস ও কিডনি শরীরের অ্যাসিড-ক্ষার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাই অ্যালকালাইন ওয়াটারকে কোনও রোগের চিকিৎসা বা শরীরের ‘ডিটক্স’ করার উপায় হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
আরও পড়ুন: মটন পোলাওয়ে বেড়ালের মাংস দেওয়ার অভিযোগ, চাঞ্চল্য গঙ্গারামপুরে
কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকবেন?
বাড়িতে অ্যালকালাইন ওয়াটার তৈরি করার প্রথম শর্ত হল জলটি বিশুদ্ধ ও পানযোগ্য হতে হবে। শুধু পিএইচ বাড়ালেই দূষিত জল নিরাপদ হয়ে যায় না। অতিরিক্ত ক্ষারীয় জলও কিন্তু সবসময় শরীরের জন্য ভালো নয়। বিশেষ করে খুব বেশি পিএইচ-এর জল নিয়মিত পান করা উচিত নয়।










