আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: যেকোনও রান্নার ক্ষেত্রেই তার স্বাদ কতটা ভালো হবে সেটা নির্ভর করে মশলার (Spices) গন্ধের উপর। রান্না সুস্বাদু না হলেই সবাই রাধুনীকে দোষারোপ করেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, দীর্ঘদিন কৌটোয় পড়ে থাকলে অনেক মশলার রং, গন্ধ ও স্বাদ ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যায়। ফলস্বরূপ রান্নাও স্বাদহীন মনে হয়। তাই রাধুনীর উপর চোটপাট না করে, কীভাবে মশলাগুলিকে সংরক্ষণ করবেন সেই উপায় জেনে নিন। তাপ, আলো, বাতাস এবং আর্দ্রতা মশলার গুণমান নষ্ট করতে পারে। তাই রান্নাঘরে মশলা সংরক্ষণের সময় শুধু কৌটো বন্ধ করে রাখলেই হবে না, কোথায় এবং কীভাবে রাখছেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
কসুরি মেথি:
শুকনো মেথি পাতার গন্ধ অনেকটাই নির্ভর করে সেটিকে কোথায় রাখছেন তার ওপর। একগাদা পরিমাণে মেথি পাতা দীর্ঘদিন একটি কৌটোর রেখে দিলে, পাতার গন্ধ ফিকে হয়ে যেতে পারে। একটি এয়ারটাইট পাত্রে অল্প পরিমাণ রেখে ব্যবহার করলে দীর্ঘদিন এই মশলার গন্ধ বজায় থাকবে। আর যদি একান্তই খুব বেশি দিন রাখতে হয়, তাহলে ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করুন।
কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো:
লঙ্কার গুঁড়োর ক্ষেত্রে রং ও সতেজতা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, নইলে রান্না বেরঙ্গিন লাগবে। পাশাপাশি ঠিকঠাকভাবে সংরক্ষণ না করতে পারলে, ফাঙ্গাস ধরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। লঙ্কার গুঁড়ো বহুদিন ভালোভাবে রাখতে চাইলে ফ্রিজে রাখাই ভালো।
হিং:
হিং-এর তীব্র গন্ধই তার বিশেষত্ব। তাই এটি অন্য মশলার সঙ্গে খোলা অবস্থায় না রেখে ভালোভাবে এয়ারটাইট কৌটোয় রাখা উচিত। পাশাপাশি এই মসলাকে আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখাও জরুরি, কারণ সামান্য জলের সংস্পর্শ মশলাকে দলা পাকিয়ে দিতে পারে।
জাফরান:
জাফরানের মতো দামি ও সুগন্ধি মশলার ক্ষেত্রে এটিকে আলো, তাপ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখা বিশেষভাবে জরুরি। ছোট এয়ারটাইট পাত্রে রেখে ঠান্ডা, অন্ধকার জায়গায় সংরক্ষণ করলে এর গন্ধ অনেকটা সময় টিকিয়ে রাখা যায়।
মগজ জাতীয় বীজ:
এগুলির ক্ষেত্রে শুধু গন্ধ নয়, সতেজতা যাতে বজায় থাকে সেই দিকটি দেখাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই এটিকেও এয়ারটাইট পাত্রে রেখে ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করা সব থেকে বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে বাইরে ফেলে না রেখে অবশ্যই ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করুন।
আমচুরের গুঁড়ো:
আদার শুকনো গুঁড়ো বা আমচুরের মতো মশলাও আর্দ্রতা টেনে নিয়ে সহজেই দলা পাকিয়ে যায়। তাই শুকনো চামচ দিয়ে মশলা নেওয়া এবং কৌটো ভালোভাবে বন্ধ করে রাখা জরুরি। রান্নার সময় সরাসরি ধোঁয়া ওঠা পাত্র থেকে মশলা থেকে দূরে রাখুন। সামান্য আর্দ্রতা ঢুকে গেলেই মশলাটি নষ্ট হয়ে যাবে।
গোলমরিচ:
গোটা গোলমরিচ সাধারণত গুঁড়ো গোলমরিচের তুলনায় অনেক বেশি দিন ভালো থাকে। তাই সম্ভব হলে গোটা গোলমরিচ কিনে প্রয়োজনমতো গুঁড়ো করে নেওয়া ভালো। এটি একটু খাটনি হবে ঠিকই কিন্তু নষ্ট হয়ে যাওয়ার থেকে রক্ষা পাবেন।
আরও পড়ুন: শুকনো লঙ্কার এই ৫ কৌশলে দূর হবে অর্থকষ্ট ও কুদৃষ্টি
দারুচিনি ও লবঙ্গ:
এই দুই গোটা মশলাও তুলনামূলকভাবে দীর্ঘদিন ভালো থাকে। গোটা লবঙ্গ ও দারুচিনির স্টিক দুই বছরের পরেও নিজেদের গন্ধ ও স্বাদ ধরে রাখতে পারে। তবে তার জন্য এগুলিকে এয়ারটাইট পাত্রে ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।










