সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ এবারের আপনিও কি কোনও গ্রামের বনেদি বা জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো দেখতে ইচ্ছুক? তাহলে শহরের কোলাহল ছাড়িয়ে ঘুরে আসতে পারেন হুগলি। এখানে গ্রামের জমিদারবাড়ির দুর্গাপুজো দেখতে চাইলে অবশ্যই ঢুঁ মারতে হবে দশঘরা গ্রামে। দীঘি, কাছারিবাড়ি, দুর্গাদালান, দোলমঞ্চ, রাসমঞ্চ, শিবমন্দির, নহবতখানা আর সিংহদুয়ার—সব মিলিয়ে আজও অতীতের জমিদারি ঐতিহ্য বহন করছে এই গ্রাম। দুর্গাপুজো শুধু বারোয়ারি মণ্ডপেই নয়, বাংলার বনেদি বাড়িগুলিতেও (Bonedi Barir Durga Puja) সমান জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়। তেমনই এক ঐতিহ্যবাহী পুজো হুগলির দশঘরার বিশ্বাস বাড়ির দুর্গাপুজো।
বিশ্বাস বাড়িতে দুর্গা পূজিত হন চতুর্ভুজা হিসেবে
পুজোর দিনগুলিতে বাড়ির ঠাকুরদালান ও সংলগ্ন এলাকা সেজে ওঠে উৎসবের সাজে। বিশ্বাস বাড়ির পুজোর অন্যতম আকর্ষণ এখানকার চার হাতবিশিষ্ট দুর্গাপ্রতিমা। দেবীর ডান হাতে ত্রিশূল ও তলোয়ার এবং বাঁ হাতে সাপ ও ঢাল থাকে। প্রতিমার বিন্যাসেও রয়েছে বিশেষত্ব—গণেশ ও কার্তিক উপরের সারিতে এবং লক্ষ্মী ও সরস্বতী নিচের সারিতে অবস্থান করেন। গণেশের প্রতিমাতেও দেখা যায় ব্যতিক্রমী রূপ।
অন্যান্য বনেদি বাড়ির মতো এখানেও (Biswas Bari) ঠাকুরদালানে তৈরি হয় প্রতিমা। পুজোর দিনগুলিতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত, এমনকি কলকাতা থেকেও বহু মানুষ এই ঐতিহ্যবাহী পুজো দেখতে আসেন। সাবেকি রীতি, অনন্য প্রতিমা ও পারিবারিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে দশঘরার বিশ্বাস বাড়ির দুর্গাপুজো আজও বিশেষ আকর্ষণ ধরে রেখেছে।
বিশ্বাস বাড়িতে রয়েছে একাধিক মন্দির রয়েছে
বিশ্বাস বাড়িতে রয়েছে একাধিক মন্দির। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৭২৯ সালে সদানন্দ বিশ্বাসের নির্মিত পোড়ামাটির অলঙ্করণে সমৃদ্ধ পঞ্চরত্ন গোপীনাথ মন্দির। মন্দির প্রাঙ্গণে রয়েছে অষ্টভুজাকার রাসমঞ্চ ও চারচালা দোলমঞ্চ। এখানকার রথযাত্রা, রাসযাত্রা ও দোলযাত্রাও বিখ্যাত। বিশ্বাস বাড়ির দুর্গাপুজো শাক্তমতে অনুষ্ঠিত হয় এবং তিন দিনই বলিদানের প্রথা রয়েছে। তবে পরিবারের সদস্যরা বলির মাংস স্পর্শ করেন না বা গ্রহণ করেন না। বলির সময় কুলদেবতা গোপীনাথ জিউ ও রাধারানিকে শয়ন করিয়ে তাঁদের কানে তুলো দিয়ে মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয়, যাতে বলির শব্দ তাঁদের কানে না পৌঁছয়। পুজোর দিনগুলিতে মা দুর্গাকে নানা ধরনের নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। দশমীতে সিঁদুরখেলা শেষে প্রতিমা নিকটবর্তী গোপীসাগর হ্রদে বিসর্জন দেওয়া হয়। তার আগে দেবীর মুকুট খুলে টেরোলের একটি কালীমন্দিরে নিয়ে গিয়ে দেবী কালীর মাথায় পরানো হয়।
কীভাবে পৌঁছবেন?
হাওড়া-তারকেশ্বর লোকালে তারকেশ্বর স্টেশনে নেমে বাসে দশঘরার বাজারপাড়া পৌঁছতে পারেন। বিকল্পভাবে, হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনে ধানিয়াখালি হল্ট স্টেশনে নেমে বাসে দশঘরা যাওয়া যায়।










