পুজোর ছুটিতে ঘুরে আসুন ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’ চোপটা, তুষারপাত থেকে ট্রেকিং সব পাবেন

Published:

Chopta Valley

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ এই দুর্গাপুজোয় দীর্ঘ ছুটি কাটাবেন বলে ভাবছেন? কিন্তু কোথায় যাবেন বুঝতে পারছেন না? তাহলে আপনার সেই মুশকিল আসান করব আমরা। হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড দেশের এমন দুটি রাজ্য যেখানে পর্যটকদের ভিড় যেন কখনোই কমে না। মজার ব্যাপার হলো, এই শৈলশহরগুলিতে পর্যটনের মরসুম কখনও শেষ হয় না। আজ আমরা উত্তরাখণ্ডের এমনই একটি শৈলশহর নিয়ে কথা বলব, যা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং রোমাঞ্চকর কার্যকলাপের জন্য পরিচিত। আমরা কথা বলব চোপটা ভ্যালি (Chopta Valley) নিয়ে, যাকে ভারতের ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’ও বলা হয়।

পুজোর ছুটিতে ঘুরে আসুন ভারতের ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’ চোপটা থেকে

চোপটা ভ্যালি… যা হরিদ্বার থেকে প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। হাতে তিন দিনের ছুটিতে যদি আপনি বেড়ানোর জন্য একটি চমৎকার ও শান্ত জায়গা খুঁজে থাকেন, তবে এখানে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন। এখানকার নির্মল হাওয়া এবং সবুজ প্রকৃতি আপনার মনকে সতেজ করে তুলবে। তাহলে চলুন, চোপটার কিছু আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান দেখে নেওয়া যাক।

এই অঞ্চলের সবচেয়ে বিখ্যাত তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র হলো তুঙ্গনাথ মন্দির, এটি ভগবান শিবের সর্বোচ্চ মন্দির যা চোপটা থেকে ৩.৫ কিমি দূরে অবস্থিত। ৩৬৮০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত তুঙ্গনাথ হলো ভগবান শিবের সর্বোচ্চ মন্দির। এটি পঞ্চ কেদার মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম, যা এই স্থানটিকে একটি অনন্য ধর্মীয় তাৎপর্য প্রদান করে। উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় অবস্থিত এই মন্দিরটি পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে পাণ্ডবরা তুঙ্গনাথ মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। শীতকালে এই স্থানটি সম্পূর্ণ বরফে ঢাকা থাকে, যার কারণে তুঙ্গনাথ মন্দিরের দরজা ছয় মাস বন্ধ থাকে।

দেওরিয়া তাল ট্রেক করতে পারেন। দেওরিয়া তাল লেক উত্তরাখণ্ডের মাস্তুরা এবং সারি গ্রাম থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রায় ২৩৮৭ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই ট্রেকটি বেশ ছোট, কিন্তু মানুষ এটি সম্পন্ন করতে দারুণ আনন্দ পায়। অনেক ধর্মগ্রন্থেও দেওরিয়া তাল লেকের উল্লেখ আছে। আপনি যদি ট্রেকিংয়ে একেবারে নতুন হন, তবে এই ট্রেকটি আপনার জন্য অবশ্যই সহজ হবে। দেওরিয়া তাল শুধু তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই পরিচিত নয়, এটি উত্তরাখণ্ডের চোপটা জেলার একটি খুব জনপ্রিয় ক্যাম্পিং স্পটও।

এছাড়া চোপটা উপত্যকার কাছে অবস্থিত এই অভয়ারণ্যটি বিপন্ন কস্তুরী হরিণ এবং আরও বেশ কয়েকটি বিপন্ন হিমালয়ী প্রজাতির আবাসস্থল। এই বিরল প্রজাতিগুলির সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য অভয়ারণ্যটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। চোপটা থেকে ৭ কিমি দূরে অবস্থিত কাঞ্চুলা কোরাক কস্তুরী হরিণ অভয়ারণ্যটি উত্তরাখণ্ডের অন্যতম ক্ষুদ্রতম কিন্তু সবচেয়ে বিশিষ্ট বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যগুলির মধ্যে একটি। চোপটার কাছে অবস্থিত এই স্থানটি বন্যপ্রাণী প্রেমীদের জন্য একটি প্রধান আকর্ষণ হিসাবে বিবেচিত হয়।

চোপটা কীভাবে পৌঁছাবেন?

এখানে পৌঁছানোর জন্য, আপনাকে প্রথমে কলকাতা থেকে ট্রেনে করে হরিদ্বার বা দেরাদুন আসতে হবে। এই দুই জায়গার যেকোনো একটি থেকে, অথবা ঋষিকেশ হয়ে চোপটায় যেতে হবে। দেরাদুন থেকে প্রায় ২৪৬ কিমি এবং ঋষিকেশ থেকে ১৮৫ কিমি দূরে অবস্থিত চোপটায় এই দুই জায়গার যেকোনো একটি থেকে জাতীয় সড়ক ৫৮ ধরে পৌঁছানো যায়। উত্তরাখণ্ডের চোপটার নিকটতম বিমানবন্দর হলো দেরাদুনের জলি গ্রান্ট বিমানবন্দর। চোপটায় পৌঁছানোর জন্য, আপনি একটি ট্যাক্সি ভাড়া করতে পারেন অথবা উত্তরাখণ্ড থেকে বাস ধরে সহজেই যেতে পারবেন।

google button