সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ৬ তারিখ উপনির্বাচনের পর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শুক্রবার চলছে রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামের ভোট গণনা। শুরু থেকে দুই কেন্দ্রেই বিজেপির প্রার্থীরা রয়েছেন এগিয়ে। নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথ যেমন একদিকে বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিলেন, অন্যদিকে রেজিনগরের শাখারভ সরকারও তাই। শেষমেষ বিরাট ব্যবধানে জয়লাভ করেন তাঁরা। তবে এবার মোট ভোটারের থেকেও বেশি ভোট পাওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে, যা নিয়ে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
বিস্ফোরক অভিযোগ অভিষেকের
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি খবরে দাবি করা হচ্ছে, রেজিনগরের ১০৯ নম্বর বুথে মোট ভোট ৭৭২। তবে বিজেপি পেয়েছে ৯০৯, হুমায়ুন কবীরের দলে গিয়েছে ১টি। এ নিয়েই এবার বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন অভিষেক। তৃণমূল সাংসদ লেখেন, “রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ১০৯ নম্বর বুথে নথিভুক্ত ভোটার ৭৭২ জন। অথচ বিজেপি একাই পেয়েছে ৯০৯ ভোট! এই অঙ্ক দেখে উত্তর কোরিয়ারও মাথা ঘুরে যাবে!”
তৃণমূল যুবরাজ আরও লিখেছেন, “জ্ঞানেশ কুমার মহাশয়, ভোটার ৭৭২, বিজেপির ভোট ৯০৯! বাকি ১৩৭ জন কি আকাশ থেকে নেমে ভোট দিয়ে গেলেন? নির্বাচন কমিশন কি এবার অংকের নতুন পাঠ্যবই প্রকাশ করবে, নাকি আসল হিসাবটা দেশবাসীকে জানাবে? গণতন্ত্রে ম্যাজিক নয়, জবাবদিহি চাই!” উল্লেখ্য, তৃণমূল সাংসদের পাশাপাশি আজ সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষও ভোটের এহেন ফলাফল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পুজো কমিটিকে অনুদান কেন? হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা
এদিকে রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম দুই কেন্দ্রেই বিজেপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে বলে আশাবাদী ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে যদিও বিজেপির জয়লাভ প্রত্যাশিতই ছিল। সেই সূত্রে ১ লক্ষের বেশি ভোটে জয়লাভ করেছেন গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হাসিরানি রথ। অন্যদিকে রেজিনগরেও বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার প্রায় ৭৫ হাজার ভোটে জয়লাভ করেছেন। ভরাডুবি হয়েছে দুই তৃণমূলেরই । ২৬ এর ভোটে রেজিনগরে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর জয়লাভ করলেও উপনির্বাচনে তাঁর ছেলে প্রত্যাশা মতো ভোট পাননি। তবে সবটাই বিজেপির এবং নির্বাচন কমিশনের কারসাজি বলেই দাবি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
সংবাদমাধ্যমের প্রিন্টের ভুল?
আসলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধীরা সংবাদমাধ্যমের যে স্ক্রিনশটটি নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন, সেটি প্রিন্টের ভুল বলেই জানিয়েছে ওই সংস্থা। পরে ওই মিডিয়া হাউসের তরফ থেকে জানানো হয়, “রেজিনগরে ১০৯ নম্বর বুথে মোট ভোটারের সংখ্যা ১১০৯। উপনির্বাচনের দিন ভোট পড়েছিল ৯৭২টি। ৯৭২টি ভোটের মধ্যে বিজেপির প্রার্থীর শাখারভ সরকার পেয়েছেন ৯০৯টি ভোট। ওই বুথে বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী পেয়েছিলেন মাত্র একটি ভোট। প্রাপ্ত ভোটের শতাংশের বিচারে প্রায় ৯৪% ভোট পেয়েছেন বিজেপির প্রার্থী। এর আগে এই খবর সম্প্রচারের সময় ভুল করে ৯৭২টির জায়গায় ৭৭২টি ভোট পড়েছিল বলে বলা হয়েছিল। অনিচ্ছাকৃত এই ত্রুটির জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।”










