মুগুড়ের হুঁশিয়ারি, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি! রেজিনগরে গ্রেফতার হুমায়ুন কবীর

Published:

Humayun Kabir Arrested

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: উপনির্বাচনের দিন উত্তপ্ত রেজিনগর (Rejinagar Bypoll)। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বাঁধতেই জোরজবরদস্তি রেজিনগরে দলীয় কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করা হল হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir Arrested)। আপাতত থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁকে। রাজ্যে পালাবদলের পর আজ মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে চলছে উপনির্বাচন। সকাল ৭টা থেকেই শুরু ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া যা চলবে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত। কিন্তু এই উপনির্বাচনের আবহে সকাল থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগছেন হুমায়ুন কবীর। এমনকি, ভোটে বাধা দিতে এলে রাস্তায় মুগুড় নিয়ে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আজুপ বিধায়ক। আর এবার তাঁকেই গ্রেফতার করল পুলিশ।

পুলিশকে হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের

নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণা অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে দুই কেন্দ্রে। এর মধ্যে রেজিনগরে ৩৪ ও নন্দীগ্রামে রয়েছে ৩৭ কোম্পানি বাহিনী। পাশাপাশি নন্দীগ্রামে ৭০০ এবং রেজিনগরে ৮১৯ রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল ৭টা বাজার আগেই সপরিবারে ভোট দেওয়ার জন্য বুথে পৌঁছে যান বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এরপর ভোট দিয়ে বেরিয়েই পুুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন নওদার বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ এবং বুথে এজেন্ট ঢুকতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এরপরই পুলিশকে রীতিমতো হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

গ্রেফতার করা হয়েছে হুমায়ুনকে

হুমায়ুন কবীর বলেন, “পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধে যাব। ভোটলুট হচ্ছে সকাল থেকে। রেজিনগরে ভোট লুট হচ্ছে। গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। বাহিনী বাইরে আছে। বুথে বুথে বাধা দিচ্ছে বিজেপি। কমিশন ঘুমোচ্ছে। পুলিশ কী ধোয়া তুলসিপাতা নাকি? আম পাবলিকের টাকায় যাদের বেতন হয়, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে পুলিশ। আজ পুলিশ যে ধরনের আচরণ করছে সাধারণ মানুষকে বলব মুগুর নিয়ে রুখতে। রেজিনগরের ওসিকে কী করি দেখুন। ভোটলুট করবে আর পুলিশকে কী রসগোল্লার হাঁড়ি পাঠাব?” এদিকে আজুপ বিধায়কের ভয়ংকর হুঁশিয়ারির পরই তাঁকে আটক করে পুলিশ। রীতিমতো পুলিশ তাঁকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তোলে এবং রেজিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: বন্দুক ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম! দশমের পরীক্ষা পাশ করলেন তিন প্রাক্তন মাওবাদী

জানা গিয়েছে, হুমায়ুনের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে জেলা নির্বাচনী দপ্তরের। অন্যদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে কংগ্রেস এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করলেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। এমনকি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বুথে বুথে পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে সিপিএমের তরফে। তাঁদের অভিযোগ, রেজিনগরের ১১২, ১১৩, ১১৪, ১২২ দাদপুর অঞ্চলের মরাদিঘিতে পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দিচ্ছে না পুলিশ। সব মিলিয়ে দুই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

google button