‘ঋতব্রত না, মমতার সঙ্গেই থাকব’ কালীঘাট তৃণমূলে ফিরছেন এক বিধায়ক

Published:

Rathin Ghosh

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: উপনির্বাচন মিটতেই ফের তৃণমূলের অন্দরে দলবদলের জল্পনা। এবার মমতার (Mamata Banerjee) কালীঘাটমুখী শিবিরে ফিরে আসতে চান ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক রথীন ঘোষ (Rathin Ghosh)। বিগত কয়েক দিন ধরে একের পর এক বিধায়ক কোন শিবিরে থাকবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। অনেকের ধারণা ED ও CBI-এর হাত থেকে বাঁচার জন্য ঋতব্রতর (Ritabrata Banerjee) দলে ভিড় বাড়াচ্ছে। কিন্তু এবার এত কিছুর মাঝে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক। সরাসরি জানিয়ে দিলেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন।

মমতার কাছেই ফিরতে চান রথীন ঘোষ

রাজ্যে পালাবদলের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের তৃণমূল কংগ্রেস মুহূর্তের মধ্যে দুটি শিবিরে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। যার মধ্যে একটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়ককে নিয়ে বিদ্রোহী শিবির তৈরি হয়েছে এবং অন্যটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরি হয়েছিল কালীঘাট শিবির। ঋতব্রত শিবিরের তালিকায় প্রথম থেকেই ছিলেন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ। কিন্তু এবার বদলেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। আচমকাই এবার মমতার দলে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন ঋতব্রতপন্থী বিধায়ক রথীন। সাংবাদিকদের সামনেই প্রকাশ করলেন তাঁর মনের কথা।

কী বলছেন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক?

সাংবাদিকদের কাছে বিধায়ক রথীন ঘোষ জানান যে, “ঋতব্রত তৃণমূল বলে কিছু নেই। আমি এখনও মনে করি না যে ঋতব্রত নামে আলাদা কোনো শিবির থাকতে পারে। তিনি শুধুমাত্র বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। কিন্তু আমরা শুরু থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই রাজনীতি করছি, মমতার সঙ্গেই আছি। এতদিন আমি মমতার দেওয়া টিকিটে জিতেছি। আমি তৃণমূল ছেড়ে যাইনি, তৃণমূলে ছিলাম, আছি, থাকব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি কোনও আন্দোলন কর্মসূচি করেন তাহলে সেই কর্মসূচিতে তৃণমূল কর্মী হিসেবে থাকব।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রীতিমতো আলোড়ন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

আরও পড়ুন: ১১ ঘণ্টা জেরার পরও স্বস্তি নেই ইন্দ্রনীলের, ফের তলব করল ED

কিছুদিন আগেই ঋত শিবির থেকে কালীঘাট শিবিরে ফিরে আসেন আমডাঙার বিধায়ক কাশেম সিদ্দিকী। তিনিও জানান যে তিনি মমতার সঙ্গেই রয়েছেন। এইভাবে ধীরে ধীরে দলের পুরোনো লোক ফিরে আসা নিয়ে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় জানান, “ঋতব্রতর যে কোনও নিজস্ব সংগঠন নেই তা এখন সকলে বুঝতে পারছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বলেছিলেন যে ঋতব্রতর সঙ্গে থাকা মানে বেইমানের সঙ্গে থাকা। এবার রথীনবাবু নিশ্চয়ই সেটি উপলব্ধি করে কথাগুলো বলেছেন।”

google button