অনন্যা সরকার, কলকাতা: ২০২৬ – ২৭ অর্থবর্ষের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) চালু করার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। সরকারি কর্মচারীদের উদ্দ্যেশে এই কথাই মঙ্গলবার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অর্থাৎ আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই গঠন করা হতে পারে পরবর্তী পে কমিশন। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance)-এর যে পার্থক্য রয়েছে, তা-ও ধীরে ধীরে মেটানো হবে। বকেয়া ডিএ-ও ঠিক সময়মতো পেয়ে যাবেন কর্মীরা, এমনই আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
সপ্তম পে কমিশন চালুর প্রতিশ্রুতি
পশ্চিমবঙ্গে সরকার পাল্টানোর পর থেকেই সরকারি কর্মীরা আশা করছেন তাঁরা এতদিন যে যে যে ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়েছেন, সেগুলির সমাধান দ্রুত করবে নয়া সরকার। তাঁদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য গত জুন মাসে পেশ করা বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটেই অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য একসাথে ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন। এর পাশাপাশি, সরকার এও প্রতিশ্রুতি দেয় যে দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিয়ে শীঘ্রই সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হবে। এর জন্যে সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৭ তারিখের আগে বেতন দিতে হবে কর্মীদের, নতুন নিয়ম শ্রম আইনে
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, সপ্তম পে কমিশন নিয়ে নির্দেশের শর্তাবলী বা ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (Terms of Reference) ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। এটি চূড়ান্ত হলেই চলতি বছরের মধ্যেই চালু করা হবে নতুন বেতন কমিশন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বেতন কমিশন চালুর করা নিয়ে দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তিনি জানান, ২০১৫ সালে অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারের নেতৃত্বে ষষ্ঠ বেতন কমিশন গঠন করা হয়। শুভেন্দু অধিকারী ২০১৯ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে তা চালু করতে অনুরোধ করেন। তখন উনি বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী বলেছেন কমিশনের রিপোর্ট তৈরি নেই। কিন্তু শুভেন্দু জানান, অর্থমন্ত্রী ভুল তথ্য দিয়েছেন, কমিশনের চেয়ারম্যানকে এবিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেও বলেন তিনি। আর তখনই কমিশনার জানান অর্থমন্ত্রী রিপোর্ট জমা দিতে বারণ করেছেন, কারণ তহবিলে টাকা নেই। তাও উনি এটি চালু করার দাবি করেন। ২০২০-তে অবশেষে ষষ্ঠ পে কমিশন চালু হয়। তবে মহার্ঘ ভাতা দেওয়া বন্ধই হয়ে যায়। পরে এবিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়, তাতেও তাঁর কিছুটা ভূমিকা ছিল বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুন: শক্তিশালী নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গের ৮ জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা, আজকের আবহাওয়া
ডিএ প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের যে পার্থক্য রয়েছে বর্তমানে, তা ধীরে ধীরে কমাবেন তিনি। অনেকে ভেবেছিলেন হয়তো এক ধাক্কাতেই ৪২ শতাংশ বেড়ে যাবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আবার প্রচার করা হচ্ছিল ১০ শতাংশ ডিএ মিলবে। তবে এর কোনোটাই না করে হিসাব করে ডিএ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। আগামী দিনে বাকি ফারাকটাও ঘুচিয়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ সময় ধরে বকেয়া ডিএ এবং নতুন বেতন কমিশন গঠনের দাবিতে আন্দোলন করছেন সরকারি কর্মচারীরা। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কর্মচারীদের দাবি মানা শুরু হয়েছে। প্রথম বাজেটে ২০ শতাংশ ডিএ দেওয়ায় ঘোষণা করে ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত করা হয়। সরকারি কর্মচারীরা বর্তমানে ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন।










