প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ধুন্ধুমার পরিস্থিতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে (Canning)। শুক্রবার, সেখানকার ‘সেবা সেতু’ ক্যাম্পে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) কাজ না হওয়ার অভিযোগে রীতিমতো অবরোধ এবং ভাঙচুর শুরু করেছিলেন বিক্ষোভরত মহিলারা। অভিযোগ ভাঙচুর (Annapurna Yojana Protest) চালিয়ে ক্যাম্পে সমস্ত সরকারি কাজ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একই ছবি দেখা গিয়েছে রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার সেবা সেতু ক্যাম্পে। শেষে পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামে পুলিশ।
অন্নপূর্ণা নিয়ে ক্যানিং-এ ধুন্ধুমার
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার অর্থাৎ ২ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে সেবা সেতু অভিযান শিবির। যা চলবে আগামী ৪ অক্টোবর, রবিবার পর্যন্ত। তিন দিনব্যাপী এই শিবিরে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য আবেদনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই শিবিরে গতকাল অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং ১ নম্বর এ। যদিও সেখানে শুরুতে ক্যাম্পে শান্তি বজায় ছিল কিন্তু পরে অভিযোগ ওঠে ক্যাম্প থেকে জানানো হচ্ছিল যে, অন্নপূর্ণা এবং আয়ুষ্মান ভারত সংক্রান্ত পরিষেবা দেওয়া হবে না। এইএর পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। ক্ষুব্ধ কয়েক জন মহিলা শিবিরের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল শিবির। শেষে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পদপিষ্ট হয়ে আহত অনেকে
শুক্রবার, রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার সেবা সেতু ক্যাম্পেও অন্নপূর্ণা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন মহিলারা। অন্নপূর্ণার টাকা না পাওয়ায় রীতিমত শিবিরে ধ্বংসলীলা চালায় সকলে। স্পষ্ট বার্তা তাঁদের, যতক্ষণ না অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ তাঁরা পাচ্ছেন, ততক্ষণ অন্য কোনও প্রকল্পের কাজ করতে দেবেন না। অনেকের দাবি যোগ্য হওয়ার পরও তাঁদের যোজনার টাকা দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সেই নিয়ে বারংবার পৌরসভা ও বিডিও অফিসে জানানো হলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। এদিন মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে শিবিরের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল যে অনেকেই পদপিষ্ট হয়ে আহত হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: “২০২১-এ মমতার পা ভাঙেইনি!” ৫ বছর পর পিজির রিপোর্ট নিয়ে নন্দীগ্রামে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর
অন্নপূর্ণার এই ক্ষোভ বিক্ষোভের একই চিত্র ধরা পড়েছিল দুর্গাপুরে। সেখানে বোকারো হস্টেল এলাকায় সেবা সেতু ক্যাম্প চলাকালীন অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম নিয়ে হাজির হয়েছিল বেশ কয়েকজন মহিলা। যোগ্য হওয়ার পরও তাঁদের যোজনার টাকা দেওয়া হচ্ছে না দাবি করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকায় খবর পেয়ে হাজির হয়েছিলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণচন্দ্র ঘোড়ই। তাঁকে ঘিরেও মহিলারা বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন।










