অনন্যা সরকার, রায়গঞ্জ: লটারি (Lottery) এমন এক জিনিস যা মুহূর্তেই বদলে দিতে পারে মানুষের জীবন। আর ভাগ্য কখন কার দরজায় কড়া নাড়ছে, তা কেউ জানে না। তাই অনেকেই নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে কেটেই ফেলেন লটারির টিকিট। হঠাৎ ভাগ্যে শিঁকে ছিঁড়লে একটি টিকিটেই রাতারাতি হয়ে যেতে পারেন কোটিপতি, আবার সারাজীবন ধরে টিকিট কেটেও অনেকের কপালে জোটে না কিছুই। তবে পেশায় বাঁশের ঝুড়ি বিক্রেতা রাজগঞ্জের কৃষ্ণচন্দ্র দাসের ভাগ্য বদলে দিয়েছে মাত্র ৩৫ টাকার ডিয়ার লটারির টিকিট। রাতারাতি হয়ে গিয়েছেন কোটিপতি।
ভাগ্যের ফেরে ৩৫ টাকাতেই কোটিপতি
অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে অতি কষ্টে সংসার চলতো রায়গঞ্জের শিকারপুরের বাসিন্দা কৃষ্ণচন্দ্র দাসের। দীর্ঘদিন ধরে বাঁশের ঝুড়ি বিক্রি করেই উপার্জন করতেন কৃষ্ণচন্দ্র। কোনোদিন বিক্রি হলে দুটো অর্থের মুখ দেখতেন, আর যেদিন বিক্রি হতো না খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হতো তাঁকে। গত শনিবারও একটাও ঝুড়ি বিক্রি না হওয়ায় হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। ফেরার পথে কি মনে হতে ঢুকে পড়েন একটি লটারির দোকানে, ৩৫ টাকা দিয়ে পাঁচ পাতার একটি সেট কিনে নেন। তখনও বোঝেননি কী অপেক্ষা করছে তাঁর জন্যে।
আরও পড়ুন: ৫০% পেনশন বৃদ্ধির ঘোষণা রাজ্য সরকারের, অ্যাকাউন্টে কত ঢুকবে টাকা?
তারপর রাত ৮টায় যখন লাকি ড্রয়ের ফল বেরোয়, তখন টিকিটের নম্বর মিলিয়ে দেখতে গিয়ে তো প্রথমে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারেননি কৃষ্ণচন্দ্র দাস। প্রথম পুরস্কারের জন্য মনোনীত টিকিটটি ছিল তাঁরই। নিমেষেই দরিদ্র ঝুড়ি বিক্রেতা হয়ে গেলেন কোটিপতি। তাঁর এই লটারি জেতার খবরটি চাউর হতেই আত্মীয়-স্বজন থেকে প্রতিবেশী – কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমতে শুরু করেন তাঁর বাড়িতে। গোটা পাড়ায় তখন আনন্দ উৎসব লেগে গেছে।
আরও পড়ুন: এক দশক ধরে সম্পূর্ন ক্যাসলেশ ভারতের এই গ্রাম, ৮ থেকে ৮০ সবাই করেন ডিজিটাল পেমেন্ট
এরই মাঝে জরুরী কাজটি সেরে নিয়েছেন কৃষ্ণচন্দ্র। তিনি থানায় গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে এসেছেন। ইতিমধ্যেই তাঁর টাকা পাওয়ার সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আর কয়েকদিনের মধ্যেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে তাঁর জেতা ধনরাশি। দীর্ঘদিন অভাবের সাথে লড়াই করে হঠাৎ এই ভাগ্য পরিবর্তন নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে কৃষ্ণচন্দ্র দাস ও তার পরিবারকে।










