বারাসতের স্কুলে পড়ুয়াদের জন্য আলাদা করে নামাজের ব্যবস্থা! জানেনই না প্রধান শিক্ষক

Published:

Barasat

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হাবড়ার পর এবার তালিকায় উঠে এল বারাসত (Barasat), অভিযোগ স্কুল চলাকালীন টিফিন পিরিয়ডে নাকি মুসলিম পড়ুয়াদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে স্কুল কক্ষের ভিতর। আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে স্কুল চত্বরে (Barasat school azan controversy)। অভিযোগ কেন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ম নিয়ে এইরূপ ভিন্ন আচরণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সেখানকার হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা।

টিফিন পিরিয়ডে হচ্ছে নামাজ

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, বারাসতের ‘গুস্তীয়া ক্ষেত্রনাথ’ স্কুলে শুক্রবার নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাস চললেও দুপুর ১২টা ১০ মিনিট নাগাদ টিফিন পিরিয়ডে মুসলিম পড়ুয়াদের নামাজ পড়ার অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয় ওইদিন নামাজ পড়ার জন্য তাদের বাড়তি সময়ও দেওয়া হয়। সেই খবর, হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যদের কাছে পৌঁছলে গতকাল, তাঁরা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখানে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন স্কুলের মধ্যে কীভাবে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জবাবে প্রধান শিক্ষক জানান তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না, যেহেতু ঘটনাটা অত্যন্ত সংবেদনশীল তাই স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে শীঘ্রই একটি মিটিং আয়োজন করা হবে।

কী বলছেন প্রধান শিক্ষক?

‘গুস্তীয়া ক্ষেত্রনাথ’ স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান যে, “এটি অত্যন্ত সেন্টিমেন্টাল ইস্যু। এটা কিছুতেই শিক্ষা প্রাঙ্গণে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। কেন কীভাবে কবে থেকে এই ব্যবস্থা শুরু হয়েছে সবটাই খতিয়ে দেখা হবে। হিন্দু মঞ্চের কয়েকজনের অভিযোগ বাকি স্কুলে যেখানে দুপুর দেড়টা নাগাদ টিফিন পিরিয়ড হয় সেখানে এই স্কুলে আগেই দুপুর বারোটা দশে নামাজ পড়ার জন্য আগে আগে টিফিন পিরিয়ড দেওয়া হয়। এছাড়াও তাদের অভিযোগ সেখানকার কিছু মুসলিম শিক্ষক নাকি হিন্দু ধর্ম নিয়ে না না ভুল তথ্য শেখাচ্ছে পড়ুয়াদের। তবে জানা যাচ্ছে এই বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা করতে চলেছেন প্রধান শিক্ষক।

আরও পড়ুন: আহার ক্যান্টিনে বড় চমক! মাত্র ১ টাকায় মিলবে বিরিয়ানি, আজ থেকেই শুরু পরিষেবা

এর আগে, হাবড়ার ‘নবপল্লী বিদ্যাবীথি হাই স্কুল’-এ ক্লাস চলাকালীন মুসলিম শিক্ষার্থীদের নামাজ পড়ার জন্য একটি কক্ষ বরাদ্দ করার অভিযোগ উঠেছিল। ইতিমধ্যেই সেই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতে বাকি স্কুলের মত স্কুলের টিফিন টাইম ১:৩০ মিনিটেই হয় সেই দাবি আপাতত তোলা হয়েছে। এখন দেখার এই নিয়ম প্রসঙ্গে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

google button