দুর্গাপুজোয় একাধিক নিয়মে বদল আনছে শুভেন্দুর সরকার, বেরোনোর আগে জেনে নিন

Published:

bjp durga puja

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি (BJP) সরকারের আমলে এটাই প্রথম দুর্গাপুজো (Durga Puja)। তাই উৎসবের আয়োজনেও বেশ কিছু নতুন নিয়ম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রতিমার উচ্চতা থেকে শুরু করে প্যান্ডেল উদ্বোধনের সময়, মদ বিক্রি, পুজোর মণ্ডপ ও বিসর্জনের শোভাযাত্রা ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রেই বদল আনা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, উৎসব যাতে শান্তিপূর্ণভাবে এবং নিয়ম মেনে হয়, সেই লক্ষ্যেই এই নির্দেশগুলি দেওয়া হয়েছে।

মহালয়ার আগে উদ্বোধন নয়, প্রতিমাতেও বদল

প্রত্যেকবার মহালয়ার আগে থেকেই একটু একটু করে মণ্ডপে ভিড় জমতে দেখা যেত। কিন্তু এই বার সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, মহালয়ার আগে কোনও পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন করা যাবে না। ১০ অক্টোবর মহালয়ার পর থেকেই শুরু হবে উদ্বোধন। অন্যদিকে কুমোরটুলিতেও প্রতিমা তৈরির ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ছবি স্পষ্ট। অধিকাংশ প্রতিমাই ১১ ফুটের মধ্যে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি এইবার সাবেকি আদলের প্রতিমার চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে। কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সাংস্কৃতিক সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যেখানে প্রায় ১৫০টি থিমের প্রতিমা তৈরি হয়েছিল, এ বার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০-১২টিতে। পার্থক্যটা নিঃসন্দেহে চোখে পড়ার মতন। তবে ১১ ফুটের সীমা নতুন কোনও নিয়ম নয় বলেই জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। এই নিয়ম অনেক আগেই তৈরি করা হয়েছিল।

পুজোর চেনা ছবিতেও এসেছে বিরাট পরিবর্তন। আগের মতো দশমীর পর আর রেড রোডে পুজো কার্নিভাল হবে না। তার বদলে মহালয়ার দিন, ১০ অক্টোবর, ইডেন গার্ডেন্সে বড় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। সেখানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ঢাকের বাদ্যি, লোকনৃত্য, ড্রোন শো এবং আতশবাজির মতো বিষয়গুলির আয়োজন করা হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পুজোর ভার্চুয়াল উদ্বোধনের পরিকল্পনাও রয়েছে। শব্দ দূষণের কথা মাথায় রেখেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এবারের পুজো এবং বিসর্জনের সময় ডিজে বা উচ্চস্বরে গান বাজানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকছে। তবে ঢাকের মতো ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারে বাধা কোনও নেই।

আরও পড়ুন: অভিষেক নন, অরূপ বিশ্বাসের নির্দেশেই জমা করা হয় টাকা! পাল্টি মারলেন সুমিত রায়

অষ্টমীতে মদ বিক্রি বন্ধ

এবার মহাষ্টমীর দিন, ১৯ অক্টোবর, রাজ্যজুড়ে মদের দোকান ও সমস্ত বার বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি পুজোর সময় অযথা রাস্তা বা জাতীয় সড়ক আটকে অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রেও সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে। থিম পুজো অবশ্য বন্ধ হচ্ছে না। তবে প্রতিমা, প্যান্ডেল বা থিমের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করে এমন কিছু থাকলে চলবে না। থিমে যাতে সনাতন ঐতিহ্য বজায় থাকে, সে বিষয়ে পুজো কমিটিগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি নিজেদের উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। মদ্যপ অবস্থায় দর্শনার্থীদের প্রবেশ রুখতে ব্রেথঅ্যানালাইজার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।