প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শিক্ষক বদলি (Teacher Transfer) নিয়ে রাজ্যের অন্দরে একের পর এক বিতর্ক যেন বেড়েই চলেছে। এমতাবস্থায় সোমবার, উদ্বৃত্ত শিক্ষক বদলি নিয়ে জারি করা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) প্রত্যাহার করল শিক্ষা দপ্তর (West Bengal Education Department)। মূলত ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ঠিক রাখতে বিভিন্ন স্কুলে ‘উদ্বৃত্ত’ শিক্ষকদের বদলির উদ্দেশ্যে গত জুলাই মাসে এটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে অসঙ্গতি থাকায় বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা উঠলে এবার সেটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এদিকে এই সিদ্ধান্তের পরেই শিক্ষা দপ্তরের কাজকর্ম ও নিয়োগের কাঠামো নিয়ে ফের প্রশ্ন তুললেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা ভাস্কর ঘোষ (Bhashkar Ghosh)।
SOP প্রত্যাহার নিয়ে মুখোমুখি ভাস্কর ঘোষ
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল সোমবার, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা ভাস্কর ঘোষ তাঁর ফেসবুকে শিক্ষক বদলি প্রসঙ্গে একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন যে, “শিক্ষা দপ্তর থেকে উদ্বৃত্ত শিক্ষক বদলি নিয়ে জারি করা SOP প্রত্যাহার করা হলো অবশেষে। কিন্তু তার পূর্বে এই নির্দেশিকাকে ব্যবহার করে যেভাবে দপ্তরের আধিকারিকরা বিগত জামানা থেকে চলে আসা তাদের কাজের ধারাবাহিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি শিক্ষা দপ্তরকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে হলে আমূল বদল প্রয়োজন। তাই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে শিক্ষা দপ্তরে উদ্বৃত্ত শিক্ষকের সংকট তৈরি হয়েছে তার কারণ খুঁজে বের করা হোক। দুর্নীতিগ্রস্ত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
শিক্ষাক্ষেত্রের উৎকর্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
ভাস্কর ঘোষ আরও জানিয়েছেন যে, “আইনে উদ্বৃত্ত শিক্ষকের কোন সংজ্ঞা নেই। যা আছে সেটা হল শিক্ষক ঘাটতি। তবে শিক্ষা দপ্তরকেও ঠিক করতে হবে আইনে ধার্য ন্যূনতম শিক্ষক সংখ্যাকে সর্বোচ্চ সংখ্যা ধরে নিলে শিক্ষাক্ষেত্রে উৎকর্ষতা আনা যাবে কী না! যেমন একটা প্রাথমিক বিদ্যালয় তিনজন শিক্ষক রাখছেন। অথচ বর্তমানে অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয়টি শ্রেণি আছে। তাহলে প্রশ্ন একজন শিক্ষক একই সাথে দুটো করে শ্রেণির পঠন-পাঠন চালালে শিক্ষার উৎকর্ষতা বাড়বে কীভাবে? একইভাবে হাইস্কুলের ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না রাখলে ছাত্রছাত্রীদেরকে বিষয়ের গভীরে নিয়ে যাওয়া আদৌ সম্ভব হবে? তাই শিক্ষা প্রশাসনের ভাবনাচিন্তাতেও উৎকর্ষতা প্রয়োজন।”
আরও পড়ুন: বাংলায় বাদ পড়া ভোটারদের নাম তুলতে এবার বিশেষ অভিযান, বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের
SOP বাতিল প্রসঙ্গে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানান, “আগে থেকেই জানা ছিল যে, এই নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হবে। কারণ যে SOP প্রকাশ করা হয়েছিল, কোনও বদলির নিয়মের ক্ষেত্রে তার উল্লেখ নেই। তাহলে সরকার কেন তা করতে গেল, সেটাই বোঝা গেল না।” নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রবশেখর মণ্ডল জানান, ‘‘সরকারের উচিত ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ করা। কারণ এর ফলে শিক্ষক ও অফিসারদের যেমন ভোগান্তি হয়, তেমনই সরকারের ভাবমূর্তিতেও ধাক্কা লাগে।”










