অনন্যা সরকার, নদিয়া: নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের মাজদিয়ায় অবস্থিত শিবনিবাসে (Shibnibas) এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গটি দেখতে প্রতিবছর ভিড় জমান লক্ষাধিক দর্শনার্থী ও পর্যটক। ২৫০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক এই তীর্থক্ষেত্র জনমানসে পরিচিত হলেও, স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ যে সেভাবে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি শিবনিবাসের। রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকার প্রাচীন তারকেশ্বর মন্দিরের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিবনিবাসের বাসিন্দারাও চাইছেন এই শিবক্ষেত্রটিকে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র (Tourist Spot) হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিক সরকার। বাসিন্দাদের এই দাবি নিয়ে এখন চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন কৃষ্ণগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক সুকান্ত বিশ্বাস।
ঐতিহাসিক শিবক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে নতুন পর্যটন কেন্দ্র
ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, ১৭৫৪ সালে নদিয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় চূর্ণী নদীর তীরে নির্মাণ করেন এই শিবমন্দির। নবরত্ন মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ১২০ ফুট। এই মন্দিরেই প্রতিষ্ঠিত রয়েছে প্রায় ৯ ফুট উচ্চতা ও প্রায় ২৬ ফুট পরিধির বিশাল কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ। স্থানীয়রা দাবি করেন এটিই এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গ।
আরও পড়ুন: ৭ তারিখের আগে বেতন দিতে হবে কর্মীদের, নতুন নিয়ম শ্রম আইনে
বিধায়ক সুকান্ত বিশ্বাস জানিয়েছেন, শিবনিবাসকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ইতিমধ্যেই তাঁর সাথে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী ড: শংকর ঘোষের কথা হয়েছে। এই বিষয়টি তিনি বিধানসভাতেও উত্থাপন করেছেন বলে জানান বিধায়ক। ধর্মীয় মাহাত্ম্যের পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্য ও স্থাপত্যকলার ক্ষেত্রে এই মন্দিরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, স্বামী বিবেকানন্দ, স্বামী প্রণবানন্দ, মোহনানন্দ মহারাজ এবং বালানন্দ স্বামী-সহ বহু সন্ন্যাসী, সাধক ও মনীষী এই মন্দিরে এসে পূজার্চনা ও প্রার্থনা করেছেন। তবে ভক্তের সমাগম বাড়লেও সেই তুলনায় শিবনিবাসের পরিকাঠামোর উন্নয়ন সেইভাবে হয়নি। মন্দিরে পৌঁছনোর জন্য উন্নত রাস্তা, পর্যাপ্ত পানীয় জল, আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, স্থায়ী পার্কিং, পর্যাপ্ত আলো ব্যবস্থা, বিশ্রামাগার, পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার এখনও অভাব রয়েছে।
আরও পড়ুন: শক্তিশালী নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গের ৮ জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা, আজকের আবহাওয়া
প্রতিবছর শ্রাবণ মাসে হাজার হাজার পুণ্যার্থী ভিড় জমান এই মন্দিরে। সেসময় বিশৃঙ্খলা ও চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয় তাদের। তাই দীর্ঘদিন ধরেই শিবনিবাসের উন্নয়নের জন্য দাবি জানানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তরা আশা করছেন রাজ্য সরকার তারকেশ্বর মন্দিরের মতোই শিবনিবাসের উন্নয়নের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।










