আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: কৃষিকাজে চাষীদের (Farmers) অভাব, বাড়তি খরচ এবং সময়ের চাপ কমাতে এবার ড্রোন (Drone) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) ডায়মন্ডহারবার মহকুমায়। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কৃষকদের ড্রোনের সাহায্যে জমিতে সার ও কীটনাশক ছড়ানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মাত্র ১০০ টাকা খরচে এক বিঘা জমিতে সমানভাবে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা সম্ভব। ইতিমধ্যেই ডায়মন্ডহারবার, মথুরাপুর ও মন্দিরবাজার ব্লকের কৃষকদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের প্রধান কারণ কী?
মহকুমার অতিরিক্ত কৃষি অধিকর্তা এ কে এম মিরাজুল ইসলামের বক্তব্য, আমাদের দেশের কৃষকরা প্রত্যেকদিন হাড়ভাঙা খাটনি করে। এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে কৃষকদের সময় ও শ্রম উভয়ই বাঁচবে। পাশাপাশি অনেকটাই কমবে উৎপাদনের খরচ। বর্তমানে কৃষিকাজে শ্রমিকের অর্থাভাব একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রোনের সাহায্যে অল্প সময়ের মধ্যে জমির বিভিন্ন অংশে সমানভাবে সার ও কীটনাশক ছড়ানো সম্ভব হওয়ায় সেই সমস্যার মোকাবিলা করা সহজ হবে। বিশেষ করে বড় জমিতে দ্রুত কাজ শেষ করার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বর্ষার সময় জমিতে সাপের উপদ্রব বাড়ে। হাতে বা পিঠে স্প্রে করার যন্ত্র নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে কীটনাশক ছড়াতে গিয়ে কৃষকদের সর্পদংশনের আশঙ্কা থাকে। ড্রোনের মাধ্যমে দূর থেকে এই কাজ করা গেলে জমিতে সরাসরি প্রবেশের প্রয়োজন পড়বে না। ফলে কৃষকদের ঝুঁকিও কমতে পারে।
তবে ড্রোন কেনার খরচ অনেক কৃষকের কাছেই বড় বাধা। জানা গিয়েছে, একটি কৃষি ড্রোনের দাম প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ২.৫ লক্ষ টাকারও বেশি হতে পারে। এই খরচ কমাতে ভর্তুকির ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। অন্যদিকে, রাজ্যের কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কৃষকদের বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র কেনার জন্যও আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা মূলত কৃষিনির্ভর জেলা। এখানে বিপুল পরিমাণ জমিতে ধান চাষ হয়। জমি তৈরি করা, বীজ বপন, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ থেকে শুরু করে ফসল কাটার আগে পর্যন্ত একাধিক ধাপ পেরোতে হয় কৃষকদের। প্রতিটি ধাপেই সময়, শ্রম এবং অর্থ ব্যয় হয়। এই পরিস্থিতিতে কৃষিকাজে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানো গেলে উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হতে পারে। বিশেষত শ্রমিকের অভাব দেখা দিলে যান্ত্রিক পদ্ধতি কৃষকদের বিকল্প সহায়তা দিতে পারে।
আরও পড়ুন: বদলে গেল প্রশান্ত বর্মনের মামলার বেঞ্চ! কেন? প্রশ্ন আইনজীবীদের
কৃষি আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে কম সময়ে জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা যাবে এবং কৃষকদের পরিশ্রমও কমবে। আগামী দিনে ধান চাষ-সহ বিভিন্ন কৃষিকাজে এই প্রযুক্তি আরও বেশি কাজে লাগানো গেলে উৎপাদন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি অনেকেই কৃষিকাজকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে পিছপা হবেন না।










