প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: BMW-র লোভে স্বামীর হাতের বলি হলেন সদ্যবিবাহিতা স্নেহা (Sneha Chakraborty)। অভিযোগ ১০ লাখ টাকা বাপের বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য বিয়ের পর থেকেই অত্যাচার চলত স্বামীর, আর শেষে এই ভয়ংকর পরিণতি হল তরুণী বধূর। ইতিমধ্যেই তাঁর এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মেদিনীপুর (Medinipur) শহরের যমুনাবালি এলাকায়। তীব্র প্রতিবাদ (BMW Dowry Harassment Case) জানিয়েছে মৃতার পরিবার ও স্থানীয়রা।
বিয়ের পর থেকেই চলত অত্যাচার
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতবছর ডিসেম্বর মাসে ভালোবেসেই ধুমধাম আয়োজন করে বালি ব্যবসায়ী রণদীপ জানার সঙ্গে বিয়ে করেছিলেন বছর ২৫ এর স্নেহা চক্রবর্তী। তাঁর বাপের বাড়ি ডাকবাংলো রোড এলাকায়। সেইসময় শ্বশুরবাড়ির কথামতো যৌতুক হিসেবে যা দেওয়ার সবই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও লোভ কাটেনি ছেলের পরিবারের। বিয়ের পর থেকেই মেয়ের উপর লাগাতার নির্যাতন চলত। এমনকি বাপের বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে আসার জন্য জোর করা হয়েছিল। শুধু তাই নয় BMW গাড়ি কেনা নিয়েও বচসা চলত দুজনের মধ্যে।
কী বলছেন মৃতার বাবা?
মৃতার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী কলকাতা পুলিসের লালবাজারে কর্মরত। তবে অভিযোগ, “বিয়ের পর থেকেই মেয়ের উপর লাগাতার নির্যাতন চলত। মৃত্যুর আগের দিন বিএমডাব্লিউ গাড়ি কেনা নিয়েও বচসা হয় মেয়ের সঙ্গে। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা আত্মহত্যা করেছে বলে চালানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আমার দৃঢ় বিশ্বাস তাকে খুন করে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।” তিনি ইতিমধ্যেই মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানায় জামাই রণদীপ জানা, তার বন্ধু বশার, শ্বশুর রতন জানা এবং পরিবারের বাকিদের বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আরও পড়ুন: নির্দিষ্ট দোকান থেকে ওষুধ না কেনায় প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি, রোগীকে হেনস্তা আরামবাগে
জানা গিয়েছে, কোতোয়ালি থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই তরুণী গৃহবধূর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে। সেই রিপোর্ট পাওয়া গেল মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে মৃতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রণদীপ-সহ শ্বশুর বাড়ির দুজনকে গ্রেফতার করেছে। গোটা ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছে মিতার পরিবার। টাকার লোভ মেয়েকে এমন ভয়ংকর অত্যাচার করার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে স্নেহার বাবা।










