অনন্যা সরকার, হুগলি: মঙ্গলবার সকালেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate) প্রাক্তন মন্ত্রী, তৃণমূল নেতা ও গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) সাথে জড়িত একাধিক স্থানে তল্লাশি অভিযানে (ED Raid) নামে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা হাইল্যান্ড পার্ক, হিন্দুস্তান পার্ক, কসবা ও সল্টলেকের পাশাপাশি পৌঁছে যান হুগলির সিঙ্গুরের বাগডাঙ্গা-ছিনামোর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ছুটিপুর-এও। সেখানে প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়ি ‘মোহর’-এ অভিযান চালায় ইডি। কয়েক বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বাগানবাড়ির দরজা বন্ধ রেখে ভেতরে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা। সে সময় বাড়ির বাইরে জড়ো হন এলাকার একাধিক মানুষ, তারা প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলতে থাকেন।
ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়ির সামনে প্রতিবেশীদের বিক্ষোভ
‘মোহর’ বাগানবাড়িতে তল্লাশি চলাকালীন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি নেতারা বাইরে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, পঞ্চায়েতের প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই প্রাক্তন মন্ত্রী ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই বাগানবাড়িটি তৈরি করেছেন। এই ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, বাড়ির বাইরের পাঁচিলের উচ্চতা বাড়ালেও তিনি পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের জন্য কোনও নিকাশির ব্যবস্থা করেননি।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির সিঙ্গুর মণ্ডল ২-এর সভাপতি উজ্জ্বল খামরু বলেন, ইডি বা সিবিআই যে শেষ পর্যন্ত আসবে, তা প্রত্যাশিতই ছিল। বছরের পর বছর ধরে মোহর বাগানবাড়িকে কেন্দ্র করে ব্যাপক দুর্নীতি চলছে। জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে ভবন নির্মাণের প্রতিটি ক্ষেত্রেই একাধিক দুর্নীতি হয়েছে। এই সবকিছুর পেছনে ইন্দ্রনীল সেন ও বেচারাম মান্না রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন উজ্জ্বল খামরু। এখন যে জমিতে বাড়িটি রয়েছে, সেটা মূলত ওই এলাকার প্রাক্তন উপপ্রধানের মালিকানাধীন ছিল। ইন্দ্রনীল সেন ও বেচারাম মান্নার যোগসাজশে এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হয় বলেই তাঁর দাবি।
আরও পড়ুন: ১৮ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা! বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের
ইন্দ্রনীলের এই মোহর বাগানবাড়ির কারণে ওই এলাকায় জল নিকাশি ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে আশেপাশের দশ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে এবং বহু কৃষক চরম বিপাকে পড়েছেন বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। এপ্রসঙ্গে এক স্থানীয় কৃষক জানান, দুটি জমির প্লট কেনার ফলে জল নিকাশির পথ বন্ধ হয়ে যায়। আমার দশ-বারো কাঠা জমির বেগুনের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। সে সময় তৃণমূল ক্ষমতায় থাকায় কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি।
আরও পড়ুন: মুম্বই-হাওড়া দুরন্ত এক্সপ্রেসে আগুন, হতাহতের সংখ্যা কত?
মঙ্গলবার প্রাক্তন মন্ত্রীর সাথে জড়িত একাধিক সম্পত্তির পাশাপাশি আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বাসভবনেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দুর্গাপূজার ‘প্রিভিউ শো’-কে কেন্দ্র করে এক বিশাল আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো। সূত্র মারফত জানা গেছে, ইউনেস্কোর (UNESCO) স্বীকৃতিকে কাজে লাগিয়ে দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমেই এই তল্লাশি অভিযান ইডি-এর।










