খড়্গপুরের রাস্তায় গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্র, আটক ৫, তদন্তে ৭ পুলিশ

Published:

Firing Kharagpur Crime

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: খড়্গপুর (Kharagpur) শহরের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায় প্রকাশ্য রাস্তায় স্কুলছাত্রকে (School Student) গুলি করে খুনের চেষ্টা। গুলিবিদ্ধ নাবালককে ঘিরে এলাকায় ছড়িয়েছে চঞ্চল্য। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ২০ নম্বর ওয়ার্ডের রেল কলোনি সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। আহত ছাত্রের নাম অক্ষয় ঝা। বাইকের পিছনে বসে যাওয়ার সময় তাঁর বুকে গুলি লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাঁকে খড়্গপুরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে খবর।

কেন গুলি চালানো হলো স্কুলছাত্রের ওপর?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অক্ষয় পরিচিত এক যুবকের বাইকে করে যাচ্ছিলেন। সেই সময় অন্য একটি স্কুটিতে আসা দুই যুবক তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। অক্ষয়ের বুকের বামপাশে একটি গুলি লাগে। হামলার পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছেন ওই নির্দিষ্ট সময়ে তাঁরা কোনও গুলির আওয়াজ শোনেননি। ফলে কী ভাবে হামলাটি ঘটল, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, ঘটনায় ইতিমধ্যেই পাঁচ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের জন্য সাতটি পুলিশি দল তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এলাকায় দুই পরস্পর বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে কোনও অশান্তির জেরেই গুলি চলতে পারে। স্থানীয় কাউন্সিলরের বক্তব্যেও উঠে এসেছে, অক্ষয় সম্ভবত অন্য এক যুবকের সঙ্গে ছিলেন, যাঁকে লক্ষ্য করেই হয়তো গুলি চালানো হয়েছিল। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে ছাত্রটিই হামলাকারীদের আসল নিশানা ছিলেন কি না, নাকি অন্য কাউকে লক্ষ্য করে ছোড়া গুলি তাঁর গায়ে লাগে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।

আরও পড়ুন: দুধের দাম বাড়ছে ৮ টাকা, আরও চাপে সাধারণ মানুষ

ওই এলাকার কাউন্সিলর ডি বাসন্তী বলেন, ‘‘আমি খবরটা পেয়ে রেল হাসপাতালে যাই। দুষ্কৃতীরা দুটো গুলি চালিয়েছিল বলে জানতে পারছি। একটি গুলি লেগেছে নাবালকের বুকের বাঁ দিকে। যে সময় অক্ষয় গুলিবিদ্ধ হয়, ঠিক তখনই নম্বরপ্লেট-বিহীন স্কুটিতে করে দু’জন যাচ্ছিলেন। আমার মনে হচ্ছে, লক্ষ্য ছিল প্রসাদের পুত্র সাগর কুমারকে গুলি করার। সাগর অক্ষয়ের বন্ধু। দু’জনে টিফিন খেতে বেরিয়েছিল। আর শ্রীনু নাইডু গ্রুপের লোক ছিল প্রসাদ। বছর কয়েক আগে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় প্রসাদের। শ্রীনুও মারা গিয়েছিল গুলিতে।’’ এই ঘটনার জেরে দিনের ব্যস্ত সময়ে খড়্গপুরের ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অক্ষয়ের উপর হামলার প্রকৃত কারণ এবং কারা এই ঘটনায় জড়িত, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

আরওKharagpur
google button