“ব্রিগেডকে জেল বানাতে হবে, যেখানে হাত দিচ্ছি সেখানেই পচা-দুর্গন্ধ”, তুলোধোনা মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

Suvendu Adhikari

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: “যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই পচা-দুর্গন্ধ!” তৃণমূলকে আরও একবার ধুয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রবিবার নিউটাউনে বিজেপির প্রশিক্ষণ শিবিরে বক্তব্য রাখেন তিনি। আর সেখানেই তৃণমূল আমলে ঘটা দুর্নীতির খতিয়ান একেবারে অক্ষরে অক্ষরে তুলে ধরেন। একেবারে তুলোধোনা করে ছাড়েন রাজ্যের পূর্বতন শাসকদলকে। বর্তমান সরকারকে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে যে চরম পরিণতির মুখে পড়তে হচ্ছে তা ইঙ্গিত দিলেন তিনি। এমনকি পুরনো দিনের দুর্নীতির ফাইল যে আবারও খুলবে তাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তৃণমূলকে চরম কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর

এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিউটনের মঞ্চ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন যে, “যেখানেই হাত দিচ্ছে, সেখানেই পচা আর দুর্গন্ধ। কী করে গিয়েছে আগের সরকার! দুর্নীতি আর অনিয়মের যা পাহাড় দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে ব্রিগেডকেই এবার জেল বানাতে হবে। ভয়ংকর দুর্নীতি করেছে। স্বচ্ছতার সঙ্গেই কাজ হবে। আর এর সুফল আগামী ৫০ বছর রাজ্য পাবে।”

এদিকে এদিন মা ক্যান্টিন নিয়েও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও আগেই মা ক্যান্টিনের নাম বদলে মা আহার করা হয়েছে। তা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ওরা বলেছিল বিজেপি এলে মাছ খাওয়া বন্ধ হবে। আগামী সপ্তাহ থেকে দু’দিন করে মাছ এবং তিনদিন করে ডিম পাবে সাধারণ মানুষ। তাও ৫ টাকার বিনিময়ে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সকলে ফোন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে বাংলাকে দাঁড় করাতে হবে। ৩৯ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চালু হবে বাংলায়। আর আগামী দিন আগামীকাল আয়ুষ্মান ভারতের টাকা বরাদ্দ করতে চলেছে নয়াদিল্লি। ১ কোটি ৪৬ লক্ষ পরিবার আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবে।”

আরও পড়ুন: ২০২১-র ভোট পরবর্তী হিংসায় মৃত BJP কর্মীদের পরিবারকে এ মাসেই চাকরি, মিলবে এককালীন টাকাও

তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘পচা-দুর্গন্ধ’ উক্তি যে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতির প্রসঙ্গকে টেনে আনছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আগের জমানায় ঘটা দুর্নীতির সমস্ত ফাইল এবং কাজ খতিয়ে দেখতে আগামী দিন কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে নতুন সরকার। এদিকে তৃণমূলকে তুলোধোনা করার পাশাপাশি নিজের কর্মীদেরও সংগঠনিক বার্তা দিয়েছেন তিনি। ক্ষমতায় আসার পর কর্মীদের আত্ম-অহংকার না করার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর। এমনকি সতর্ক করে বলেছেন যে, “বিজেপি ব্যক্তি পুজোতে নয়, বরং যৌথ নীতিতে বিশ্বাসী। সকলকে মিলেই কাজ করতে হবে।”