মায়ের গলার হার চুরি করে পালাচ্ছিল দুষ্কৃতী, ১৪ বছরের দিব্যার ক্যারাটেতে কুপোকাত ছিনতাইকারী

Published:

Divya Sunil stops chain snatcher

অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা বেজে গেছে। রোজকার মতোই নওয়াদা মেট্রো স্টেশনের কাছে টিউশন সেন্টারের বাইরে মেয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মা সাথী সুনীল। টিউশন থেকে বেরিয়ে দিব্যা তার মায়ের সাথে একটি ই-রিকশায় চড়ে রাত আটটা নাগাদ ওম বিহারের ফেজ ৫-এ নিজেদের বাড়ির সামনে নামেন। বাড়ির দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় উল্টোদিক থেকে আসা এক ব্যক্তি সাথীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং দ্রুত তাঁর গলার সোনার চেইনটি ছিনিয়ে নেয় (Chain Snatcher)। তারপর ১৪ বছর বয়সী দিব্যা সুনীল এক অবাক কাণ্ড ঘটায়, যা খবরের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে। 

উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিল নির্ভীক দিব্যা

যে মুহূর্তে দিব্যা দেখে মায়ের গলার চেইন চুরি হয়েছে, এক মুহূর্তও দেরি করেনি সে। চোরটির পিছনে ধাওয়া করে। দ্রুতগামী যানবাহনে ঠাসা ব্যস্ত রাস্তার মধ্যে দিয়েই সে চোরটিকে তাড়া করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত আধা কিলোমিটার দৌড় করিয়ে সে ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলে এবং সোনার চেইনটি তার কাছ থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ না আসা পর্যন্ত সে স্থানীয়দের সাহায্যে চোরটিকে আটকে রাখে। বিকাশপুরী কেরালা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী দিব্যা এই ঘটনায় তার সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেওয়ার জন্য সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছে। 

সাথী সুনীল উত্তম নগরের ফেজ ৫-এর বাসিন্দা। তিনি করোল বাগের রামকৃষ্ণ মিশন হাসপাতালে স্টাফ নার্স হিসেবে কাজ করেন। ছিনতাই হওয়া সোনার চেইন ও লকেটটির ওজন ছিল প্রায় ৮ গ্রাম। সাথী জানান, চেইন হারানোর চেয়েও তাঁর বেশি দুশ্চিন্তা ছিল চোরটি তাঁর মেয়ের কোনো ক্ষতি করে না দেয়, তা নিয়ে। দিব্যা যখন চোরটিকে ধরে ফেলে, তখন স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। তবে সাথী তাঁদের বলেন যে, যেহেতু তিনি চেইনটি ফেরত পেয়ে গেছেন, তাই তিনি চোরটির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করতে চান না। কিন্তু পরে দেখা যায় চেইন থেকে লকেটটি উধাও হয়ে গেছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির বাসিন্দা সাথী এই ঘটনায় রীতিমত হতবাক।

আরও পড়ুন: আবাস যোজনার নামে ১০,০০০ টাকা আত্মসাৎ বিজেপি নেতার, তাও নাম উঠল না উপভোক্তার

এদিকে, সাহসী কিশোরী দিব্যা নিয়মিত ক্যারাটের প্রশিক্ষণ নেয়। তাই সহজেই সে চোরের পিছু ধাওয়া করার মতো সাহস সঞ্চয় করতে পেরেছিল। গত পাঁচ বছর ধরে ক্যারাটে শিখছে সে। এই প্রশিক্ষণই তাকে মুহূর্তের মধ্যে চোরের পিছনে ধাওয়া করার মতো মানসিক শক্তি ও সাহস যুগিয়েছিল। দিব্যা নওয়াদার ‘পাঞ্জাজন্যম ভারতম কালচারাল সেন্টার’-এর শিলু জোসেফের ছাত্রী। সেখানে সে সঙ্গীত ও নাচেরও প্রশিক্ষণও নেয়। তার এই আত্মরক্ষার শিক্ষা তাকে সমস্ত রকম পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করে তুলেছে, যার ফল পাওয়া গেল হাতেনাতে।

আরও Chain Snatcher Delhi
google button