প্রেমের বিয়েতে ঘোর আপত্তি! এই গ্রামে ‘লাভ ম্যারেজ’ নিষিদ্ধ করল পঞ্চায়েত

Published:

Love Marriage

অনন্যা সরকার, হরিয়ানা: চলবে না প্রেমের বিয়ে, না মানলে হতে হবে একঘরে! এরকমই বিধান দিল হরিয়ানার হিসার জেলার আর্য নগর গ্রামে অনুষ্ঠিত একটি খাপ পঞ্চায়েত। সেই সালিশি সভায় প্রেমঘটিত বিবাহের (Love Marriage) বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পাস করা হয়েছে এবং ঘোষণা করা হয়েছে যে, একই গ্রামের মানুষদের মধ্যে এই ধরনের সম্পর্ক গড়ে উঠলে, তাদের সামাজিকভাবে ‘বয়কট’ করা হবে।

প্রেমের বিয়েতে সামাজিক বয়কটের হুঁশিয়ারি  

রবিবার হিসার জেলার আর্য নগর গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সভায় সেদিন প্রায় ১,০০০ গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন। গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, যারা প্রেমের বিয়েতে সমর্থন জানাবে, তা সে পরিবারের সদস্য বা অন্য যে কেউ হোক, তাদের বিরুদ্ধেও একইরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রস্তাবে আরও বলা হয় যে, এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে গ্রামবাসীদের মতামত জানার জন্য একটি কমিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালাবে। সূত্র মারফত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি এই গ্রামে তিনটি প্রেমের বিয়ের ঘটনা ঘটেছে, আর তারই প্রেক্ষিতে সমাজ পঞ্চায়েত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ কুলবন্ত গোসলার সভাপতিত্বে এই পঞ্চায়েত সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

তবে আর্য নগর গ্রামের সরপঞ্চ রতন সিং, যিনি নিজেও এই পঞ্চায়েত সভায় উপস্থিত ছিলেন, তিনি জানিয়েছেন যে, এই সিদ্ধান্তে গ্রামের নির্বাচিত পঞ্চায়েতের কোনো ভূমিকা নেই। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি গ্রামে এধরনের তিনটি বিয়ের ঘটনা ঘটার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ক্ষেত্রে যুগলরা ভিন্ন বর্ণের এবং একটি ক্ষেত্রে একই বর্ণের ছিলেন।

আরও পড়ুন: বায়ুসেনার ‘জাগুয়ার’ স্কোয়াড্রনে নিযুক্ত প্রথম স্থায়ী মহিলা পাইলট, ইতিহাস গড়লেন তনুষ্কা!

ভজন লাল নামে এক গ্রামবাসী জানান, তারা গ্রামের প্রতিটি মেয়েকেই নিজেদের মেয়ে বলে মনে করেন। তবে ইদানিং একটি নতুন প্রথা বা প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা তাদের দীর্ঘদিনের সামাজিক রীতিনীতির পরিপন্থী হয়ে উঠছে। আর তাই পুরো গ্রাম এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। তবে এই প্রসঙ্গে হিসারের পুলিশ সুপার সিদ্ধান্ত জৈন বলেছেন যে, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন ও এই ধরনের দম্পতিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে পুলিশ প্রশাসন।

উল্লেখ্য, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী কমল আনন্দ জানিয়েছেন যে, সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্করা চাইলে নিজেদের জীবনসঙ্গী বেছে নিতে পারেন, তা তাদের মৌলিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। এক্ষেত্রে, সামাজিক বয়কট আরোপকারী পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত বা আদেশের কোনও আইনি বৈধতা নেই। ফলে, জোর করে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তিনি আলোচনার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি জানান, ধরনের আদেশ প্রদানকারীদের ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে ভীতি প্রদর্শনের জন্য ফৌজদারি মামলার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।