“উদ্বেগ একেবারে অযৌক্তিক” দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে জাতিসংঘের মন্তব্যের কড়া জবাব দিল ভারত

Published:

Delhi Protest

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিল্লির আন্দোলন (Delhi Protest) ও গণগ্রেফতার নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরের করা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাল ভারত। একে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ বলে উড়িয়ে দিল বিদেশ মন্ত্রক। নয়াদিল্লির তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ধরনের উদ্বেগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। শনিবার জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরের মন্তব্যের পর রবিবার কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছে দিল্লি।

কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “আমরা নয়াদিল্লিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কিছু মন্তব্য লক্ষ্য করছি। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র, যেখানে আমাদের সংবিধানেই শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত হওয়ার অধিকার রয়েছে।” তিনি বলেন, দেশের স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান আর যুক্ত গণমাধ্যম এই অধিকারকে সুনিশ্চিত করে থাকে।

আইনশৃঙ্খলা এবং জননিরাপত্তা বজায় রেখে প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশের মতো ভারতীয় নাগরিকরাও অধিকার প্রয়োগ করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এমনকি তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি আইনানুগভাবে কাজ করছে, এবং আদালতের দ্বার সকলের জন্যই খোলা। সেই কারণে জাতিসংঘের এই উদ্বেগ একেবারেই ‘অযৌক্তিক’ বলে দাবি করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

এদিকে জাতিসংঘের ভূমিকার সমালোচনা করে বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, জনসমক্ষে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে বেছে বেছে মন্তব্য করার নীতি নিয়েছে ওএইচসিএইচআর। পাকিস্তান বা ফ্রান্সের মধ্যে প্রতিবেশী বা অন্যান্য দেশগুলির আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিক্ষোভ দমনের হিংসাত্মক ঘটনাগুলির ক্ষেত্রে এই দফতরের মুখে কোনও রকম টু শব্দ শোনা যায় না। ভারতের অভিযোগ, এই ধরনের দ্বিমুখী নীতি সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করে আর সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়।

Image

আরও পড়ুন: “স্বৈরাচারের অবসান শুরু হয়েছে” গ্রামে ফিরছেন অভিজিৎ দীপকে, শেষ আন্দোলন?

উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার মানবাধিকার সংগঠনের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান এক বিবৃতিতে দিল্লির বিক্ষোভ এবং গ্রেফতারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের আগে এবং চলাকালীন বিক্ষোভকারী, প্রতিবাদী নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের যেভাবে গণগ্রেফতার করা হয়েছে, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন।” সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই এবার স্পষ্ট জবাব ভারত সরকারের।

google button