সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিল্লির জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র উমর খালিদ (Umar Khalid) ২০২৬ সালের ‘অ্যাওয়ার্ড ফর হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স অ্যাট রিস্ক’-এর জন্য নির্বাচিত হলেন। আয়ারল্যান্ডের মানবাধিকার সংগঠন ফ্রন্টলাইন ডিফেন্ডার্স বৃহস্পতিবার এই পুরস্কারের ঘোষণা করেছে, যেখানে উমর খালিদসহ নাম রয়েছে আরও চারজনের। তবে জেলবন্দি থাকার জেরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি।
আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেলেন উমর খালিদ
জানিয়ে রাখি, ২০২০ সালে উত্তর-পূর্ব দিল্লির সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর থেকেই জেল হেফাজতে রয়েছেন তিনি। এমনকি সম্প্রতি তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। তবে জেলবন্দি থাকা সত্ত্বেও এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন উমর। একাধিক তথ্য অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, ফ্রন্টলাইন ডিফেন্ডার্স মূলত সেই সমস্ত মানবাধিকার কর্মীদের এই সম্মান প্রদান করে, যারা নিজেদের কাজের জন্য হুমকি বা বিপদের মুখে পড়েন। উমর খালিদের দীর্ঘদিনের কারাবাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠন। তাদের মতে, এই ঘটনা ভারতে মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আর ভিন্ন মতপ্রকাশের সুযোগ নিয়ে নেতিবাচক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
সংগঠনের আরও অভিযোগ, ভিন্ন মতের কণ্ঠস্বর দমনে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ব্যবহার এবং জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পরিস্থিতিকেও তারা প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। জানিয়ে রাখি, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ থেকে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে এই সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনায় মৃত্যু হয় অন্তত ৫৩ জনের এবং শতাধিক মানুষ আহত হন।
Umar Khalid has won the 2026 Award for Human Rights Defenders at Risk, presented by Front Line Defenders. At the award ceremony in Dublin, his father spoke about his continued incarceration.
Umar has spent more than six years in prison and could not be present at the event. https://t.co/I1kSKx56qk
— Free Umar Khalid (@FreeUmarKhalid1) October 9, 2026
আরও পড়ুন: সিউড়ির পার্টি অফিসে ঢুকে হামলার জের, অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তা বাড়াল রাজ্য সরকার
তবে উমর খালিদ ছাড়াও এ বছর আরও চারজন মানবাধিকার রক্ষক এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন যথাক্রমে ইরানের মৃত্যুদণ্ড বিরোধী আন্দোলন কর্মী আহমদরেজা হেরি, অ্যাঙ্গোলার নারীবাদী ও গণতন্ত্রকর্মী লরিন্ডা ম্যানুয়েল গোভেইয়া, ব্রাজিলের কৃষ্ণাঙ্গ ট্রান্সজেন্ডার নেত্রী এড্ডা ভিক্টোরিয়া কাতানো এবং সার্বিয়ার নারীবাদী শান্তি প্রতিষ্ঠার কর্মী ল্যজিলজানা নেসিক।










