ভারতের প্রকল্প বাতিল করে সীমান্তের কাছেই বড় প্ল্যান বাংলাদেশের, চিনের সাথে হল চুক্তি

Published:

Bangladesh china

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বছরখানেক আগে মোংলা বন্দরের কাছেই 110 একর জমিতে ভারতের অর্থনৈতিক অঞ্চল বা ইকোনোমিক্স জোন তৈরির প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছিল বাংলাদেশ (Bangladesh)। এবার সেই মোংলা বন্দর নিয়ে চিনের (China) সাথে মোটা অঙ্কের ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করল তারেক রহমানের বাংলাদেশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই বন্দরের আধুনিকীকরণ এবং সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে চিনের ব্যাঙ্কের সাথে 335.78 বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে সই করেছে পদ্মা পাড়ের দেশ। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় বাংলাদেশের এই বন্দরটি ভারতের সীমান্ত থেকে 80 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

চিনের সাথে হাত মিলিয়ে ভারতকে বার্তা দিচ্ছে বাংলাদেশ?

জানা যাচ্ছে, বিশেষ চুক্তি অনুযায়ী দুটি কন্টেনার টার্মিনাল তৈরি করা হবে মোংলা বন্দরে। তৈরি হবে আলাদা কার্গো হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড এবং একটি কন্টেনার ডেলিভারি ইয়ার্ড। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের এই বন্দরের উন্নয়ন এবং আধুনিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত কাজ করা হবে বিশেষ চুক্তির মাধ্যমেই। আসলে এই ঋণ চুক্তির মধ্য দিয়ে চিন এবং বাংলাদেশ যে আরও কিছুটা কাছাকাছি আসবে সে কথা বলাই যায়। তবে অনেকেই মনে করছেন, এই বিশেষ পদক্ষেপের মধ্য দিয়েই খুব সম্ভবত ভারতকেও বার্তা দিয়ে রাখতে চাইছে বাংলাদেশ।

বলাই বাহুল্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর চিনে গিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দেখা করে এসেছেন তারেক রহমান। শুধু তাই নয়, দেখা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সাথেও। এছাড়াও ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি একাধিক দেশের প্রধানদের সাথে বৈঠক করেছেন তারেক। এদিকে ভারত সফর স্থগিত রেখেছেন ওপারের প্রধান। এমতাবস্থায়, প্রধানমন্ত্রী মোদির সাথে দেখা না করে চিনের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্রমশ ঘনিষ্ঠতা নয়া দিল্লির জন্য খানিকটা চিন্তার বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

আরও পড়ুন: নতুন সভাপতি পেল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, অ্যাড-হক কমিটির দায়িত্বে অধ্যাপক লালু দাস

উল্লেখ্য, এর আগে শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসন। সে সময় মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার মোংলা বন্দরের অনতিদূরে ভারতের ইকোনমিক জোন তৈরির প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছিল। জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্প বাতিল করে দেয় বাংলাদেশ। বলা চলে সেই সময় থেকেই চিনের সাথে ক্রমশ সখ্যতা বাড়িয়ে চলেছে পদ্মা পাড়ের দেশ।

google button