“মৃত্যুকে ভয় পাই না” বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে হামলাকারী পাইলটের

Published:

al-hammami (1)

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই-তেল আভিভগামী বিমানে মাঝ-আকাশে ক্যাপ্টেনকে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী পাইলট (Pilot) হামাম আল-হাম্মামিকে (Hamam al-Hammami) ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে বিস্ফোরক তথ্য। ২৯ বছর বয়সি ওমানি নাগরিক হামামকে আগেই তাঁর দেশের বিমান সংস্থা ওমান এয়ারের তরফে উড়ান চালানো থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁর উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে সেই সময় থেকেই নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ ছিল। পরে কীভাবে তিনি ফের ককপিটে পৌঁছলেন, তা নিয়েই এখন উঠছে বড় প্রশ্ন।

নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে কি বললেন আল-হাম্মামি?

‘বিমানটিকে ক্র্যাশ করাতে চেয়েছিলাম, মৃত্যুকে ভয় পাই না’- তদন্তকারীদের কাছে নাকি এমনই দাবি করেছেন হামাম, এমনটাই জানিয়েছে The Wall Street Journal। সংবাদপত্রটির রিপোর্ট অনুযায়ী, সৌদি আরবে বিমানটির জরুরি অবতরণের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় এই বক্তব্য দেন তিনি। তাঁর এই স্বীকারোক্তি থেকেই তদন্তকারীরা মনে করছেন, মাঝ-আকাশের ঘটনাটি নিছক আচমকা হামলা ছিল না। এটা আগে থেকে তৈরি কোনও পরিকল্পনা হতে পারে, তাই বিষয়টি আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি। পরে হামামকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানেও তদন্ত চলছে।

হামামের বিমান চালানোর কেরিয়ার শুরু হয়েছিল ওমান এয়ারে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাঁর অনলাইন গতিবিধির উপর নজরদারির সময় উগ্রপন্থী ওয়েবসাইটে তাঁর আগ্রহের বিষয়টি সামনে আসে। এরপর তাঁকে উড়ান থেকে সরিয়ে অফিসের কাজে দেওয়া হয়। এমনকি তাঁকে উগ্রপন্থী মতাদর্শ থেকে দূরে রাখার একটি কর্মসূচিতেও যুক্ত করা হয়েছিল বলে WSJ-কে জানিয়েছেন তাঁর অতীত সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা। শেষ পর্যন্ত ওমান এয়ার ছেড়ে দেন হামাম। কীভাবে তিনি অন্য একটি বিমান সংস্থায় পাইলট হিসেবে কাজের সুযোগ পেলেন, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

হামামের ব্যক্তিগত জীবন ও সিরিয়ায় থাকার সময়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে জন্মেছিলেন বলে একাধিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বাবা ওমানি এবং মা সিরিয়ার নাগরিক। জীবনের একটা সময় সিরিয়াতেও কাটিয়েছেন তিনি। সেই সময়ই তাঁর মধ্যে উগ্র ইসলামপন্থী মতাদর্শের প্রভাব তৈরি হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর পুরনো সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলিও তদন্তের আওতায় এসেছে। মুছে দেওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে উদ্ধারযোগ্য তথ্য এবং অনলাইন কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে তাঁর মানসিকতা ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

এরই মধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে আরও কিছু বিতর্কিত তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, হামামের সমাজমাধ্যমে ইজরায়েলি বিমান এবং আল-কায়দার প্রয়াত নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির ছবি-সহ কনটেন্টের উপস্থিতি তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। তাঁর অনলাইন আচরণে মহিলাদের কাজ করা নিয়ে আপত্তি এবং অতিরিক্ত রক্ষণশীল ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিতও মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি সৌদি মহিলাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তিনি ভুয়ো পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছিলেন বলেও WSJ-র রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সামলাবে ১ কোটি যাত্রী, বাগডোগরায় ১০৫ একর জায়গাজুড়ে তৈরি হচ্ছে বিরাট টার্মিনাল

গত বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানটি। বিমানে ছিলেন ১৭০-রও বেশি যাত্রী। ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে ছিলেন হামাম। অভিযোগ, মাঝ-আকাশে আচমকাই ক্যাপ্টেনের উপর হামলা চালান তিনি এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, হামলা চালাতে বিমানে থাকা ক্র্যাশ অ্যাক্স ব্যবহার করা হয়েছিল। ঘটনার জেরে বিমান দ্রুত নীচের দিকে নেমে যায়। শেষ পর্যন্ত ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হলে যাত্রী ও অন্য ক্রুরা ভিতরে ঢুকে হামামকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটির জরুরি অবতরণ হয়।

google button