অনন্যা সরকার, কলকাতা: ঘর পরিষ্কার করার সময় জুতোর তাকে পুরোনো চটি জুতো (Old Shoes) খুঁজে পাওয়াটা খুবই সাধারণ ব্যাপার। কিছু জুতো অনেকদিন ধরে পরা হয় না, আবার কয়েকটার এতটাই জীর্ণদশা হয়ে যায় যে, সেগুলো আর পরতে ইচ্ছে করে না। বেশিরভাগ মানুষই পুরোনো এই জুতোগুলোকে ডাস্টবিনে চালান করে। কিন্তু পরেরবার এমনটা করার আগে দু’বার ভাবুন। কারণ আপাতদৃষ্টিতে অকেজো মনে হওয়া এই জুতোগুলো ঘর সাজানো থেকে শুরু করে অন্যান্য দৈনন্দিন কাজেও বেশ উপযোগী হয়ে উঠতে পারে। আর এরজন্য আপনার পকেট থেকে খুব বেশি টাকা খরচও হবে না। সামান্য সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় পুরোনো স্নিকার চামড়ার জুতো বা বুটকে এমন সব সামগ্রীতে রূপান্তরিত করা যায়, যা বাড়ির সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলবে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, পুরোনো জুতো ফেলে না দিয়ে কীভাবে সেগুলোকে অন্যভাবে ব্যবহার করা যায়।
জুতো ফেলার আগে দেখে নিন সেটা সত্যিই ফেলার যোগ্য কিনা
যদি অনেকদিনের ব্যবহারের ফলে জুতোর হিল ক্ষয়ে যেতে শুরু করে বা সোলের আস্তরণ উঠে যেতে শুরু করে, তবে আরও খারাপ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। আগেভাগেই মেরামত করিয়ে নিলে জুতো বেশিদিন টিকবে। এছাড়াও, জুতো ব্যবহার করে সেটিকে অযত্নে এক পাশে ফেলে না রেখে, বাড়ি ফিরেই একটি নরম কাপড় দিয়ে, তা মুছে নিন। বিশেষ করে বর্ষা ও শীতে জুতো থেকে ময়লা ও আর্দ্রতা দূর করা জরুরি। এতে জুতো দ্রুত নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।
পুরোনো জুতোকে রূপান্তরিত করুন প্রয়োজনীয় সামগ্রীতে
আপনার জুতো যদি এতটাই পুরোনো হয়ে যায় যে, তা। আর পরার যোগ্য না থাকে, তাহলেও সেটিকে ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বাড়ির বিভিন্ন কাজে এগুলোকে নতুন করে ব্যবহার করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: অল্প সময়ে সন্ধ্যের টিফিনে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন দইয়ের ফুলকি, স্বাদ হবে অতুলনীয়
১. যদি আপনার কাছে পুরোনো ক্যানভাস জুতো বা স্নিকার্স থাকে, যা আর পরার যোগ্য নয়, তবে আপনি সেগুলোকে ছোট প্ল্যান্টারে পরিণত করতে পারেন। জুতোয় মাটি ভরে ছোট গাছ লাগান। জানালার ধারে, বারান্দায়, বা বাগানে রাখলে এই প্ল্যান্টারটি দেখতে বেশ সৃজনশীল ও অভিনব লাগবে। বিশেষ করে, পুরোনো জুতো ছোট ফুলগাছের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
২. আপনার বাড়িতে যদি লম্বা রাবারের বা পুরোনো বুট পড়ে থাকে, তবে সেগুলো ফেলে না দিয়ে দরজার কাছে রাখুন। এগুলোর মধ্যে সহজেই ছাতা রাখা যায়। শুধু ছাতাই নয়, এগুলোতে লম্বা বাগান করার সরঞ্জাম বা এমন জিনিসও রাখা যায় যা সোজা করে রাখা কঠিন।
৩. জুতো যদি পুরোনো হয়ে যেতে শুরু করে কিন্তু মজবুত থাকে, তবে সেগুলোকে নতুন রূপ দেওয়া যেতে পারে। এর জন্য নতুন ফিতে, ফেব্রিক পেইন্ট, কাপড়ের প্যাচ বা ভালো শু পলিশ ব্যবহার করে নয়া লুক দেওয়া যেতে পারে।
৪. পুরোনো জুতোর রাবারের সোলও একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয়। এটি কেটে দরজার নিচে রাখা যেতে পারে। এতে দরজা বারবার বন্ধ হওয়া থেকে আটকানো যাবে। অর্থাৎ, পুরো জুতো ব্যবহার করা না গেলেও, এর একটি ছোট অংশ বাড়ির কাজে লাগতে পারে।










